প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ফলে বিপর্যস্ত অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,২৯৫ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মৃতের পরিবারের সদস্যরা জীবিত স্বজনদের ফেরার আশা ছাড়ছেন না। কিন্তু উদ্ধারকাজে ধীরগতির জন্য আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক কমে যাওয়ার মতামত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চল শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। লা গুয়াইরা শহরের ধসে পড়া ভবনগুলোতে কেউ আর জীবিত অবস্থায় নেই, এটি নিশ্চিত হয়ে উদ্ধারকর্মীরা সেগুলোকে 'মৃত' বা 'D' চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করছেন। প্রতিদিন ধ্বংসস্তূপ থেকে অসংখ্য মৃতদেহ বের করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও স্বজনেরা জীবিত প্রিয়জন ফিরে পাওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়েননি। তবে সময়ের সাথে সাথে তাদের সেই আশা নিভে আসছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের খোঁজের চেয়ে টিকে থাকার লড়াই এখন বড় হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে, তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ শিবিরের সামনে খাবারের জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার এবং কাড়াকাড়ি চলছে, যা চরম বিশৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত করছে। এর মধ্যে ব্যাপক চুরি ও লুটপাটও দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘকাল ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য খাত আগে থেকেই দুর্বল ছিল। বর্তমানে রাজধানী কারাকাসের হাসপাতালগুলো আহত মানুষের ভিড়ে উপচে পড়ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতির কারণে চিকিৎসকরা কেবল গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে হাম ও ডিপথেরিয়ায় সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা সতর্ক করা হয়েছে।
চরম মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার ৫ লাখ মানুষের তিন মাসের খাবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৫ কোটি ডলারের সহায়তা চেয়েছে।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সাহায্য, প্রয়োজনীয় তহবিল এবং উদ্ধারকাজের ভারি যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, তাও এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন