প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইল বিতর্কিত ই১ বসতি প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বিমকম।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হতে পারে। পশ্চিম জেরুজালেম থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিমকমের গবেষণা বিভাগের প্রধান মিখাল ব্রাইয়ার বলেন, গত বছর ইসরাইলের ই১ বসতি স্থাপন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন তারা।
ব্রাইয়ার জানিয়েছেন, ‘আবেদনগুলো ই১ এলাকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ বসবাস করেন। আমাদের আশঙ্কা, তাদের সবাইকে জোরপূর্বক ওই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা হবে এবং ওই এলাকাটি পুরোপুরি ইহুদিদের ভূখণ্ডে পরিণত হবে।’
তিনি বলেছেন, ইসরাইলের পরিকল্পনায় প্রায় ২ হাজার দুনাম জমির কথা বলা হলেও এর আওতাভুক্ত এলাকা আরও অনেক বড়। বিশেষভাবে ওই এলাকার চারপাশে যে বিচ্ছিন্নতা প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটি অনেক বিস্তৃত অঞ্চলকে ঘিরে ফেলবে।
ব্রাইয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ই১ এলাকায় প্রস্তাবিত বিচ্ছিন্নতা প্রাচীরই মূল কারণ, যার ফলে এই বসতি পরিকল্পনাকে পশ্চিম তীরকে ‘দুই ভাগে বিভক্ত’ করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এর ফলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের চলাচল ও যোগাযোগের সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে পড়বে।
ব্রাইয়ার আরও যোগ করেছেন, ‘এটি মূলত পশ্চিম তীরের উত্তর অংশ ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগের সুযোগ খুব কমিয়ে দেবে।’
১৯৬৭ সালে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরাইল এ পর্যন্ত প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে অন্তত ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র আপত্তির পরও ইসরাইলি সরকার পশ্চিম তীরে একের পর এক বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। ই১ এর মধ্যে এটি সর্বশেষ ও সর্ববৃহৎ প্রকল্প।
গত বুধবার ইসরাইলের গৃহায়ন মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিটের দরপত্র প্রকাশ করেছে। এটি মূলত গত আগস্টে ইসরাইলি সরকার অনুমোদিত ৩,৪০১টি আবাসন ইউনিটেরই অংশ। প্রকল্পটির আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পড়েছে।
পরিকল্পনাটি প্রকাশের সময় কট্টর ডানপন্থি ও বসতি স্থাপনকারীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।
এই নতুন অবৈধ বসতি নির্মাণের ইসরাইলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে বলেছে, পশ্চিম তীরে ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য ইসরাইলের দরপত্র আহ্বান ‘অগ্রহণযোগ্য’। তাদের মতে, এটি ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগ’ লঙ্ঘন করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই প্রকল্পে অংশ নেয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘আইনি ও সুনামগত পরিণতি’ হতে পারে। একই সঙ্গে ইসরাইলকে অবিলম্বে এসব পরিকল্পনা প্রত্যাহার এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এসব পদক্ষেপ শুধু আমাদের শান্তি থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থানকে আরও দুর্বল করবে।’
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরাইলের এই পরিকল্পনার ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান’ জানিয়েছে। অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘এসব লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ’ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, এই পরিকল্পনা ‘একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
পৃথক বিবৃতিতে ইসরাইলের এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের নতুন অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনের খবর, যার মধ্যে নতুন দরপত্র আহ্বানও রয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিবকে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন