প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শান্তি আলোচনা একটি গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে এই আলোচনা নিয়ে যখন দুই নেতার মধ্যে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তখন লেবাননে ইসরাইলি হামলা নিয়ে সংকট আরও বেড়ে গেছে, যা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানোর মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত এক ফোনালাপে ট্রাম্প তীব্র ভাষায় নেতানিয়াহুকে গালমন্দ করেন এবং তাঁকে ‘অকৃতজ্ঞতা’র অভিযোগ করেন। বুধবার (৩ জুন) ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, হ্যাঁ, আমি বলেছিলাম। তবে আমি রাগান্বিত থাকিনি, বরং লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার তাঁর মনোভাব দেখে কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছেন যে, নেতানিয়াহুকে তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো।
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই টানাপোড়েনের খবরকে মৃদুভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একটি ভালো পরিবারেও মাঝে মধ্যেই কৌশলগত মতবিরোধ হয়। আমরা সকলেই এসব বিষয় বন্ধুত্বের মাধ্যমে সমাধান করি। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সকালে যখন কোনো বিষয়ে দ্বিমত হয়, তা বিকালের মধ্যেই মিটে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফোনালাপের নেপথ্যে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের সামরিক লক্ষ্যের ভিন্নতা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলার প্রায় ১০০ দিন শেষ হওয়ার পর এই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাড়াতে এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তখন ইসরাইল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইলকে নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এখন ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জাতীয় কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট গত মার্চ মাসে পদত্যাগ করে অভিযোগ করেছেন যে, ইসরাইলি লবির চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নেতানিয়াহুর থেকে সামান্য দূরত্ব বজায় রাখা রাজনৈতিকভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতিহাস বলে, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। এর আগে বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের সঙ্গেও নীতিগত বিষয়ে তাঁর মতবিরোধ হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ককে বরাবরই সবচেয়ে উষ্ণ মনে করা হত এবং নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে আখ্যায়িত করে এসেছেন। বর্তমান ফোনালাপের তিক্ততা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন জোর আলোচনা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন