প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার অভিযোগে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা থানায় মামলা করেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মুন্না নামের ২৫ বছর বয়সী অভিযুক্তকে একমাত্র আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। অভিযুক্ত মুন্না রানা হিজল গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন, যিনি মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক সূত্র ও এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি দরিদ্র পরিবারের সদস্য। তাদের কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা রানা হিজল গ্রামের এক তালুকদারের বাড়িতে বসবাস করতেন। গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে অপেক্ষমাণ যুবক মুন্না তাকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর মুন্না শিশুটিকে ধারাল ছুরি দেখিয়ে প্রাণসংহার করার হুমকি দেয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।
তবে আগামী রোববার (১৪ জুন) শিশুর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে তার ফুফুকে বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে শিশুর ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে তার বাবা কে খবর দেন।
ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা এবং ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার পরিবারের কাছে বিচার চাইতে যান। কিন্তু অভিযুক্তের বাবা বিষয়টি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান, এমনকি হুমকি দেন যে, যদি তারা এই বিষয়টি সম্পর্কে কাউকে জানান বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেন, তবে তাদের সকলকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবেন।
ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ গভীর তদন্ত করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন