প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেপ ভার্ডে, যে দেশটির নাম কিছুদিন আগে অনেকের কাছে ছিল অজানা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার খেলা শুরু করে এই ছোট দেশটি এক রূপকথার কাহিনী রচনা করেছে। এবং সেই কাহিনীর সবচেয়ে বড় নায়ক হিসেবে টিকে আছেন গোলকিপার ভোজিনিয়া। অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে রাতারাতি ঝড় তুলেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের খেলাগুলো শেষ হয়ে গেলেও ভোজিনিয়ার স্বপ্নযাত্রা কিন্তু থেমে যায়নি। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেজ থেকে তিনি এখন যোগ দিয়েছেন চিলির সবচেয়ে সফল ফুটবল ক্লাব কোলো কোলোতে।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) চিলির শীর্ষ লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের জন্য চুক্তি করেন ভোজিনিয়া। চুক্তির পরের দিনই একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে ক্লাবটির নতুন সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর ঠিক একদিন আগে রোববার সান্তিয়াগোতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে কোলো কোলোর উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে তিনি দুই দিনেই সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন।
ভোজিনিয়ারের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় কেটেছে তুলনামূলকভাবে ছোট ক্লাব ও নিম্ন স্তরের লিগে। তিনি স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস এবং পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের বিভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন। নিজের প্রতি তার বিশ্বাস ছিল যে, ধারাবাহিক পরিশ্রম একদিন তাকে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ এনে দেবে।
অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। চিলির সবচেয়ে সফল ক্লাব, ৩৪টি লিগ শিরোপা ও ১৪টি কোপা চিলি জয়ী কোলো কোলো তার কাছে ডাক পাঠিয়েছে। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, তুলনামূলকভাবে ছোট লিগ এবং কম আলোচিত ক্লাবগুলোতে খেললেও কখনো নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ জন্মায়নি।
‘আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, আমি বড় ক্লাবের হয়ে খেলার যোগ্য। তাই যখন কোলো কোলোর প্রস্তাব পেয়েছি, তখন সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও ভাবতে হয়নি। প্রথম দিন থেকেই আমি জানতাম, আমার গন্তব্য এখানেই। অন্য ক্লাব থেকেও প্রস্তাব ছিল, কিন্তু কোলো কোলোই ছিল আমার প্রাধান্য।’
‘বিশ্বকাপে খেলা নিঃসন্দেহে আমার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, কিন্তু সেটিকে এখন পিছনে ফেলে আসতে হচ্ছে। এত সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি ক্লাবের সদস্য হতে পারা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত।’
বিশ্বকাপের মঞ্চেই ভোজিনিয়ার নাম ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বের সামনে। গ্রুপ পর্বে যখন স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্ডের ঐতিহাসিক ড্রয়ের মাধ্যমে দলের প্রথম পয়েন্ট অর্জনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে শেষ ষোলোর খেলায় শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চমৎকার গোলকিপিংয়ের প্রদর্শনে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং আবারও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক দারুণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার সেরা একাদশে স্থান পান ভোজিনিয়া। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন সামুদ্রিক শামুকের প্রজাতির নাম রেখেছেন ভোজিনিয়ার নামে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার, কিন্তু টুর্নামেন্টে উজ্জ্বল প্রদর্শনের পর এই সংখ্যা বেড়ে এখন পৌঁছে গেছে প্রায় তিন কোটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন