প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফেসবুকে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
এছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে, রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। সাক্ষাতের পর, ছাত্রদল সভাপতি রাকিব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন।
পোস্টের শুরুতেই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি উল্লেখ করেন, 'অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।'
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলেননি।
আরও, বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাকিব।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন রাকিব। তিনি বলেন, তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার ফলে কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্ব সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের শ্রম-ঘামে রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং তারা নানা ষড়যন্ত্র দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে রাকিব বলেন, আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরা কেবল নিজেরাই সৎ ও পরিশ্রমী থাকেননি, বরং অধীনস্থ নেতাকর্মীদেরও সততা, নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেদিকেও তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন।
নিজ দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে এলে, তিনি নিজের জায়গা থেকে তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
রাকিব-নাসির কমিটির সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল এই কমিটির অন্যতম প্রধান সাফল্য।
তিনি জানান, ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরবর্তী বাস্তবতায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত মবকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক বুলিংকে উপেক্ষা করে নেতৃত্ব প্রদান করতে হয়েছে।
দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে রাকিব বলেন, 'ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ না।' দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তিনি তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন রাকিব।
তিনি আরও লেখেন, একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন