প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের একটি কিলিং নেটওয়ার্ক বিদ্যমান ছিল। রবিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানালেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন একজন সেনা কর্মকর্তা। তিনি মন্তব্য করেন, ছবির স্বাক্ষ্যদাতা এখনও উপস্থিত রয়েছেন এবং তার জবানবন্দি চলমান রয়েছে। সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি বিশেষ বিবরণ ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন। অর্থাৎ, র্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। জাফলংয়ে পৌঁছানোর পর, ভারত থেকে আসা সাদা পোশাকের কিছু লোক আরও দুজন আসামিকে নিয়ে আসেন। তারপর এসব আসামিদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
সাক্ষীর বিবরণে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তায় মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেন জিয়াউল আহসান। তিনি এভাবেই একাধিক হত্যাকাণ্ড প্রাণায়িত করেছেন। ভারতীয় লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই সম্ভবত নিয়ে আসতেন। তাদের দল বা বাহিনী সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তবে, জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে সক্রিয় ছিল। কিন্তু ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা ভারতের নাগরিক, নাকি বাংলাদেশের নাগরিক, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে জিয়াউল আহসান দুটি বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে হত্যা করেছেন। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে এবং আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। সাক্ষীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই পদ্ধতিতে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন