প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার দোহারে ৫ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ হল, ঋণের কিস্তি আদায়ে এনজিও কর্মকর্তাদের দ্বারা চাপ, ভয়ভীতি, এবং গালাগালির কারণে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এবং এর ফলে দুইজনের মৃত্যু ঘটে।
তবে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহতদের মধ্যে একটি হলেন দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার বাসিন্দা লাভলী আক্তার। অন্যজন হলেন তার মা রেহানা বেগম। পরিবারের সূত্র থেকে জানা যায়, লাভলী আক্তার প্রায় ১ বছর আগে 'রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন' নামের একটি এনজিওর বটিয়া শাখা থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য। কিন্তু কিছু মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার ছেলে নিয়মিত অর্থ পাঠাতে ব্যর্থ হয়। ফলে তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধে অক্ষম হন।
পরিবারের অভিযোগ, কিস্তি বকেয়া থাকায় এনজিও কর্মকর্তাগণ নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে, ভয় পেয়ে লাভলী আক্তার তার মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, ২৪ জুন লাভলী আক্তার যখন মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেই সময়ে এনজিওর একজন কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। ওই ঘটনার পর লাভলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর, পরিবারের আরো অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, মেয়ের মৃত্যুর শোক কাটানোর আগেই একই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য রেহানা বেগমের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হয়। সোমবার সন্ধ্যার আগে এনজিওর লোকজন নাগেরকান্দা এলাকায় গিয়ে টাকা পরিশোধ না করলে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখান। তখন রেহানা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ রেহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠায়। এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঋণ আদায়ে ভয়ভীতি বা অসদাচরণ করা হয়নি। তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন