প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকারের তরফ থেকে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে খেলাফত মজলিসের সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এসব উদ্যোগের বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম মোড়কের কারণে উদ্ভূত পরিবেশ দূষণ রোধে, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে সরকার নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
পাট খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে পাট আইন, ২০১৭, জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ এবং চারকোল নীতি, ২০২২ প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়াও, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে রফতানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার পিএলসি (জেডিপিসি)-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
শিল্পের জন্য উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার 'উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ' প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, পাটপণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে ‘জুট প্রোডাক্ট কর্নার’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পাট অধিদপ্তর এবং জেডিপিসি মিলিতভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করছে, যাতে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলোর পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২০ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়। এর মধ্যে ১৪টি পাটকল ইতিমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা দেয়া মিলগুলোর মধ্যে ৯টি ইতিমধ্যে উৎপাদনে ফিরেছে এবং অবশিষ্ট মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন