০৪:৩৮ এম
আম একটি জনপ্রিয় ফল, যা প্রায় সবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশে, আমকে ফলের রাজা বলা হয়। তবে ফলটি নিয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যেগুলো সত্য কি না—তা নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।
গরম পড়তে শুরু করলেই আম বাজারে আসতে শুরু করে এবং দ্রুত খাদ্য তালিকায় ও আড্ডার আলোচনায় স্থান করে নেয়। সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার—আম সব সময়ই আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রতি মৌসুমে বড়দের কাছ থেকে শোনা যায় একটিই সতর্কতা—বেশি আম খেলে নাকি শরীর গরম হয়ে যায়।
কিন্তু এই ধারণার পেছনে কতটা সত্যতা আছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রচলিত ধারণায় বিভিন্ন খাবারকে গরম বা ঠান্ডা হিসেবে ভাগ করা হয়। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিদ্যার মতে, খাবারকে এইভাবে ভাগ করার চেয়ে তার উপাদান ও পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে বিচার করা বেশি যুক্তিযুক্ত।
আরও পড়ুন: ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির অবিশ্বাস ব্রাজিলের
আমকে সাধারণত উষ্ণ প্রকৃতির ফল বলা হয়, কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটি সরাসরি শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়—এমন কোনো প্রমাণ নেই। আমে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও ম্যাঙ্গিফেরিনের মতো কিছু উপাদান, হজমের সময় সামান্য তাপ উৎপন্ন করতে পারে। ফলে আম খাওয়ার পর কিছুটা উষ্ণ অনুভূতি হতে পারে, তবে তা শরীরের মূল তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় না। এই অনুভূতি মূলত বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে, পরিমাণের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি আম খাওয়ার বিষয়টি এবং একসঙ্গে কয়েকটি আম খাওয়ার বিষয়টি এক নয়। অতিরিক্ত আম খেলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া অথবা পেটে অস্বস্তি, কারণ এতে ফাইবার ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি।
অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা ছাড়াও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ কেউ ত্বকে ব্রণ বা ঠোঁটের চারপাশে জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন। অধিক পরিমাণে আম খেলে ক্যালোরি বেশি হওয়ায় ওজন বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
আর একটি কম পরিচিত বিষয় হলো, আমের খোসার কাছাকাছি যে আঠালো রস থাকে, তার মধ্যে ইউরুশিওলজাতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা কারও কারও ক্ষেত্রে ঠোঁটে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মা-রা গেছেন
গরমকালে আম খেলে শরীর গরম লাগার পেছনে শুধুমাত্র আম দায়ী নয়। তীব্র গরমে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি ফল খেলে শরীর ভারী বা অস্বস্তিকর লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, আম খেলে শরীর গরম হয়ে যায়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত খাওয়া, হজমের সমস্যা এবং গরমের প্রভাব মিলেই এই অনুভূতি তৈরি হয়। তাই পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন