প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি এবং দোকান দখলের প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে। এই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিকার চেয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে শহরের রেলগেট এলাকায় অবস্থিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সংবাদ সম্মেলন করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আনার কলি এবং তাঁর স্বজনরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আনার কলি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০২৩ সালে শহরের রেলগেট এলাকায় বৈধ দলিলের অনুযায়ী আরএস রেকর্ডীয় মালিক সাহাব উদ্দিন মন্ডল দিং এর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। সেই জমির নাম খারিজ করে খাজনা প্রদান করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ৫ আগস্টের পর বিএনপির পৌর মহিলা দলের নেত্রী রোকেয়া সুলতানা কিছু মহিলাদের এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে দোকান দখলের চেষ্টা করেন।
দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার পর থেকে বিগত এক বছরে রোকেয়া সুলতানা দোকানের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
তিনি আরো বলেন, ‘জমি ও চুরির বিষয়ে থানা এবং উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। আদালত থেকে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে মালামাল চুরি করে নিয়েছে।
এখন আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি এবং হয়রানি করা হচ্ছে। আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে রোকেয়া সুলতানা তাঁদের সন্ত্রাসী বলে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’
শিক্ষিকা আনার কলি বলেন, ‘আদালত থেকে জমির মালিকানা প্রমাণ করার জন্য কাগজ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু রোকেয়া সুলতানা কোনো কাগজ দেখাতে পারছেন না। এমনকি তিনি গোপনে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে এক তরফা ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন।
আমরা এই বিষয়টি জানার পর সেই ডিগ্রির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। তবে রোকেয়া সুলতানা অবৈধভাবে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর ক্রয়কৃত বৈধ জমি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এই বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা জানান, তাঁর মৃত স্বামী শাহান মন্ডলের ওয়ারিশ সূত্রে তিনি জমির মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাবিবুর রহমান কর্নেল নামের একজন ব্যক্তি অবৈধভাবে জাল কাগজ করে জমিটি ক্রয় করেছেন। ওই কাগজের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনের কাছে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জমির বৈধ মালিক হিসেবে রোকেয়া সুলতানা দাবি করেন, জমি দখল নিতে উচ্ছেদ মামলা করা হবে এবং আদালত থেকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান। তবে চুরির বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেন বিএনপির মহিলা দলের সভানেত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন