প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ বায়নের খালের কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় খালনির্ভর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার, কৃষি সেচ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তির শিকার ছিলেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর-এর নির্দেশনায় খালটির কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান।
জানা গেছে, সম্প্রতি বায়নের খালের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নজরে আসে। এরপর তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও গুণগতমান ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ৫নং ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বড়াল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ শামীম হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ মাসুম বিল্লাহ, ইউপি সদস্যবৃন্দ, বিএনপির নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে খালটি প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিল। পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকায় পানি সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। খালটির কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, “বায়নের খাল ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর মহোদয়ের নির্দেশনায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো খাল পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী পানি পায় এবং কৃষি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কচুরিপানা অপসারণ শেষে খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আবারও কচুরিপানার দখলে না যায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বজায় থাকে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন