প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন সৌদি আরব সফরের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীরতর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ’র সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৈঠক চলাকালে রাষ্ট্রদূত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পক্ষ থেকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে যুবরাজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং জানান, সৌদি যুবরাজও পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী।
আপনারা জানুন, আমরা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরো জোরদার করার পরিকল্পনা করছি।
তিনি বলেন, এই অগ্রগতি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন করে।
বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে খুব ভালো উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব স্থাপন করতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।
তিনি আরো বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের আগ্রহ থাকায় দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি সরকার এবং দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
পারস্পরিক আমন্ত্রণ বিনিময়কে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে এ উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরবে আমন্ত্রণ জানানো এবং সৌদি যুবরাজের বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ দুই দেশের সম্পর্ককে উভয় পক্ষের দেওয়া গুরুত্বের পরিচয় দেয়।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দুই সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর অথবা যুবরাজের বাংলাদেশ সফরের মধ্যে কোনটি আগে হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, আলোচনা মাধ্যমে আমরা এসব বিষয় চূড়ান্ত করব।
হুমায়ুন কবির বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রতি এই পারস্পরিক আগ্রহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই দুই দেশের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। আমরা সৌদি আরবকে শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় অংশীদার নয়, বরং অত্যন্ত ভ্রাতৃপ্রতিম অংশীদার হিসেবে মনে করি।
কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গত চার মাসে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শক্তিশালী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ দূত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ফলে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রতি সদিচ্ছার ব্যাপক সুনাম তৈরি করা সম্ভব হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, সেই সদিচ্ছা এখন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব তাদের কৌশলগত যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন