প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করার কারণে ঢাকা এবং নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে আবার নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এ নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই বেসরকারি আয়োজনের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না।
যাহোক, পররাষ্ট্র বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা মনে করেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান প্রতিরোধে দিল্লির ব্যর্থতা দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আস্থা পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব এখন দিল্লির হাতে।
জানা গেছে, ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অন্তত দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এই বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করা হয়েছিল। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করতে না পারেন, সেই বিষয়ে ঢাকার তরফ থেকে সুস্পষ্ট সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। ভারতীয় হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর দিনেই ঢাকার প্রতিক্রিয়া ছিল নজিরবিহীন কড়া। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলমান প্রচেষ্টার মধ্যে এমন ঘটনা সম্পর্কের নতুন শুরুর পথে বাধাগ্রস্ত করে। পরবর্তীতে নয়াদিল্লির নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে করা কোনো বক্তব্য ভারত সরকার ‘অনুমোদন বা এনডোর্স’ করে না।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রকাশ্যে নয়াদিল্লি যা-ই বলুক, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এমন একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার যুক্ত হওয়া ভারত সরকারের নজর এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। তবে ঢাকার শক্তিশালী প্রতিবাদের পর ভারত বুঝতে পেরেছে যে এ ইস্যুতে ঢাকাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেনঃ ‘আমাদের রিঅ্যাকশনটা ছিল বেশ শক্তিশালী। ভারতের দিক থেকে যে বক্তব্যটা এসেছে, তাতে বোঝা যায় তারা বিষয়টিকে আর ঘনীভূত করতে চায় না। তারা যদি সত্যিই বাংলাদেশকে একটি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল সম্পর্কে দেখতে চায়, তবে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে তাদেরকে এখন থেকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য বাড়তি উদ্যোগ এখন ভারতের পক্ষ থেকেই আসতে হবে। বাংলাদেশ এখন পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকবে যে ভারত তাদের আচরণে কী বার্তা দিতে চায়। স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সরিয়ে রেখে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে মনোযোগ দেয়াটাই এই মুহূর্তে সমীচীন হবে।
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূল শর্ত হলো পারস্পরিক মর্যাদা ও ভারসাম্য। তার মতে: ‘বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আস্থায় নেয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব ভারতেরই। নিজেদের স্বার্থেই দুপক্ষকে একত্রে কাজ করতে হবে, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক কনফিডেন্স ও আস্থার ভিত্তিতে।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকাকেও একই সঙ্গে সতর্ক ও কৌশলী কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন আগামী দিনগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের ছন্দ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন