প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্যটি করেন, যা ছিল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে তেজগাঁও।
সার্জিও গোর সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, 'তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে।' এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জন্য তাদের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে (ভ্রমণ নির্দেশিকা) একটি ইতিবাচক সংশোধন এনেছে। এটি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে পৌঁছবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। এছাড়া, বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়। মার্কিন বিশেষ দূত বাংলাদেশে এফডিএ-র পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার আশ্বাসও দেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগ জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জবাবে বিশেষ দূত জানান, ডিএফসির মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবেই কাজ করে যাবে। এ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রশংসা করে তিনি বলছেন, ভবিষ্যতে 'প্যাক্স সিলিকা' উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার ভালো সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগিরই ঢাকায় একটি 'ইউএস ইনভেস্টর সামিট' আয়োজনে আগ্রহী এবং তিনি নিজেই এ নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সার্জিও গোর লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা করেন।
প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।' তিনি মার্কিন সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি এ সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আসিয়ান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন