প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের ১২ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি রেমিট্যান্স এক অর্থবছরে আগে কখনো আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন্তব্য অনুযায়ী, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ অনেকাংশে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেল ব্যবহারের উৎসাহিত করেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে আগের বছরের জুন মাসের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর পূর্বে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন রেমিট্যান্স আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। কিন্তু এটি একটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, গত মে মাসজুড়ে দেশে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। যা ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।
এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। তারপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়নে নেমে যায়। গত ১৪ জুন এডিবির ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসেবে ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে দ্রুত কমতে থাকে। একই সঙ্গে ওই সময়ে ৮৪ টাকা থেকে প্রতি ডলারের দর বেড়ে উঠে যায় ১২০ টাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নামে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন