প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রখর সূর্য দ্বারা সৃষ্টি দাবদাহে বর্তমানে ইউরোপজুড়ে হাহাকার প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। মহাদেশজুড়ে নতুন করে ধেয়ে আসা আকস্মিক তাপদাহের কারণে কোটি কোটি মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যয়ের জনজীবন এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, ১৩ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফ্রান্সে কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্সের চ্যাটিউমিল্যান্ট অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, এবং রাজধানী প্যারিসেও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। এছাড়া, প্রায় ৩৪ কোটি মানুষের এলাকাতে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে, যা ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-পঞ্চমাংশে পৌঁছেছে।
গবেষকরা উল্লেখ করেন যে, মানবসৃষ্ট কারণের জন্যই এত ঘনঘন এবং তীব্র তাপদাহের সৃষ্টি হচ্ছে। ভৌগোলিকভাবে ইউরোপ পৃথিবীর দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকা মহাদেশ হলেও, এই অস্বাভাবিক গরম মোকাবেলার জন্য এর অবকাঠামো প্রস্তুত নয়।
তীব্র খরা এবং পরপর একাধিক তাপদাহের কারণে ইউরোপের বনগুলোতে ক্ষতিকর লকলকে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। উত্তর গ্রীসে বনের অগ্নিকাণ্ড দুটি জনপ্রিয় রিসোর্টের দিকে ধেয়ে আসায় শত শত পর্যটককে নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। যুক্তরাজ্যেও একই খরা পরিস্থিতির মাঝে, দমকল কর্মীরা ঘরবাড়ি ধ্বংসকারী দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাজ্য মেট অফিস জানায়, দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রীষ্মের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সেখানে গতকাল অন্তত ৪০টি স্থানে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি বা তার বেশি রেকর্ড হয়েছে। ইতালির পশ্চিম উপকূল, পো ভ্যালি এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলেও কোটি কোটি মানুষ অসহনীয় গরমের ভিতর দিবস অতিবাহিত করছেন। প্রতিনিয়ত জোরালো হয়ে ওঠা এই আবহাওয়া অবস্থার কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, পাশাপাশি প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন