০১:৫৩ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘একাত্তরের ইতিকথা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ছবিটি সংগৃহীত ওই অনুষ্ঠানের। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলাম রচিত ‘একাত্তরের ইতিকথা’ বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও মোড়ক উন্মোচন শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম নয়, বরং এটি মানুষের চেতনা, চিন্তা ও জীবনবোধের একটি বড় পরিবর্তনের সময়। একাত্তরের ইতিকথা- গ্রন্থটি স্বাধীনতা সংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।’
আরও পড়ুন: আ. লীগ ফিরলে প্রথমে তারেক রহমানকে হত্যা করবে, দাবি নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. আবুল কাশেম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এ ধরনের আত্মকথনধর্মী গ্রন্থ ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। ওয়ালিউল ইসলামের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা বইটিকে আরও সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও গবেষক মফিদুল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলভিত্তিক ইতিহাস সংরক্ষণে এ ধরনের গ্রন্থ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং সমাজ-রাজনীতির সমন্বয়ে লেখা এই বইটি গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে এ ধরনের বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘একাত্তরের ইতিকথা’ শুধুমাত্র স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন।’
নারী অধিকারকর্মী শিরিন পারভীন হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল একটি মানবিক ও সামাজিক মুক্তির লড়াই। একাত্তরের ইতিকথা গ্রন্থটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
আরও পড়ুন: ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির অবিশ্বাস ব্রাজিলের
সাবেক সচিব এবং এসএমসি ও এসএমসি ইএল-এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একাত্তরের ইতিকথা- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য ও গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে নতুনভাবে অনুধাবনে সহায়ক হবে’।
তিনি একযোগে লেখকের দীর্ঘ কর্মজীবন, মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
একইভাবে সাবেক সচিব এবং এসএমসি ও এসএমসি ইএল-এর সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক অন্তর্দৃষ্টি সমন্বয়ে রচিত- একাত্তরের ইতিকথা গ্রন্থে ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অনন্য চিত্র উঠে এসেছে।’
এসএমসির সদস্য ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের গ্রন্থ শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণ করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মূল্যবোধ এবং ইতিহাস বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘একাত্তরের ইতিকথা’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনা এবং সমাজ-রাজনীতিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।’
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মা-রা গেছেন
লেখক ওয়ালিউল ইসলাম তার বক্তব্যে জানান, এই গ্রন্থটি মূলত তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং সময়ের বাস্তবতার প্রতিফলন।
তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার প্রশাসনিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের চিত্র তিনি এই বইয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএমসি এবং এসএমসি ইএল-এর চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, এসএমসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তছলিম উদ্দিন খান, এসএমসি ইএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েফ নাসির, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এসএমসি এবং এসএমসি ইএল-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গ্রন্থ পরিচিতি, আলোচনা, বই থেকে অংশবিশেষ পাঠ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
আরও পড়ুন: কাবাডি খেলোয়াড় মিথিলাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
উল্লেখ্য, গ্রন্থকার সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলাম দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ও নানা পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন