প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মিরকাদিম মৎস্য আড়তে বর্তমানে বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সরবরাহ রয়েছে, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই রুপালি মাছটি। এক কেজি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৫০ টাকায়। আর দেড় কেজি ওজনের বড় ইলিশের দাম এখন ৩ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) ছুটির দিনে মিরকাদিমের পাইকারি মাছের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আকারের ইলিশ নিয়ে বসে আছেন। সেখানে বড় ইলিশের পাশাপাশি ছোট আকারের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট ইলিশের দামও কম নয়, কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই মাছ।
ইলিশ ছাড়া আড়তে রুই, কাতল, আইড়, বোয়াল, কৈ, শিং, টেংরাসহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ এবং সামুদ্রিক মাছও রয়েছে। কিন্তু প্রায় সব ধরনের মাছের দামই ক্রেতাদের অভিযোগে বেশি বলে জানা গেছে।
মাছ কিনতে আসা কয়েকজন ভোক্তা জানান, কয়েক মাস আগে যে ইলিশ তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই মাছ কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে মাছ খাওয়ার পরিকল্পনা করলেও দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।
হানিফ নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে মাছ আছে, কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এক কেজি ইলিশ কিনতেই আড়াই হাজার টাকার বেশি লাগছে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটা অনেক কঠিন।’
সবুজ সরকার নামের আরেক ভোক্তা বলেন, ‘ইলিশ এখন উৎসবের মাছ হয়ে গেছে। আগে মাঝে মাঝে কিনে খেতে পারতাম, এখন দাম এত বেশি যে কিনতে ভয় লাগে। শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের দামও বেশি।’
আরেক ক্রেতার ভাষ্য, ‘নদীর জেলা মুন্সীগঞ্জে থেকেও আমরা সাশ্রয়ী দামে ইলিশ কিনতে পারছি না। জেলেরা মাছ ধরছে, আড়তেও মাছ উঠছে, তারপরও দাম কেন এত বেশি সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।’
এদিকে, মাছের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চাহিদা ও সরবরাহের বিষয়টিকেই সামনে আনছেন আড়তদাররা।
মিরকাদিম মৎস্য আড়ত সমিতির সভাপতি আল হেলাল রয়েল জানান, ‘বর্তমানে বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকলেও সেই অনুপাতে সরবরাহ নেই। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশ কম আসছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেশি। নদীতে মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৭৯০ মেট্রিক টন ইলিশসহ মোট ৩১ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করা হয়েছে।
তবে, আড়তে মাছের সরবরাহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, বাজার তদারকি বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে মাছের দাম কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন