প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের মঞ্চে আগামীকাল (১৭ জুন) নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে ইরাক ও নরওয়ে। এই ম্যাচটি দুদলের জন্যই পরের রাউন্ডে ওঠার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সময় ভোর ৪টায় বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে।
দুদলের জন্যই এটি নিজেদের ফিরে পাওয়ার মঞ্চ। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে এই ম্যাচের দুই দল। ইরাক দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে, অন্যদিকে নরওয়ের অপেক্ষা ২৮ বছরের। তাই ধরে নেওয়া যায়, দুদলই একটুও ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।
কোচ স্টেল সোলবাকেনের অধীনে নরওয়ে এবার এক রূপকথার মতো বাছাইপর্ব পার করে মূল মঞ্চে পা রেখেছে। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা ৮টি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে এবং গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে। ওই ৮ ম্যাচে তারা রেকর্ড ৩৭টি গোল করেছে, তাহলে হজম করেছে মাত্র ৫টি। ম্যাচ প্রতি গড় ৪.৬টি গোল করে ভাইকিংরা ইউরোপীয় দেশের মধ্যে এক ক্যাম্পেইনে সর্বোচ্চ গড় গোলের নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এই আক্রমণের মূল কাণ্ডারি ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হল্যান্ড, যিনি এই বাছাইপর্বে একাই ১৬টি গোল করেছেন।
অন্যদিকে, ইরাকের মূল মঞ্চে আসার পথটি ছিল খুবই কণ্টকাকীর্ণ। বাছাইপর্বের মাঝপথে তাদের কোচ বরখাস্ত হওয়ার পর অভিজ্ঞ ডাচ-অস্ট্রেলিয়ান গুরু গ্রাহাম আর্নল্ডের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে টিকিট পায় ইরাক। তবে টুর্নামেন্টের ঠিক আগে শক্তিশালী স্পেনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে রেখেছে এশীয় প্রতিনিধিরা।
ইরাক আজ মাঠে নামছে তাদের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও ১০৩তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাওয়া গোলরক্ষক জালাল হাসানের ওপর ভরসা করে। রক্ষণভাগে তাকে সুরক্ষা দেবেন জায়েদ তাহসিন এবং রেবিন সুলাকা। মাঝমাঠে বল জোগানোর দায়িত্বে থাকছেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা জিদান ইকবাল এবং আমির আল-আম্মারি; যিনি এশিয়ান বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে ইরাকের ৫টি গোলের ৩টিতে সরাসরি অবদান রেখেছিলেন। আক্রমণে ভাইকিংদের ডিফেন্স ভাঙঁতে থাকবেন স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন ও আলী আল-হামাদি।
অন্যদিকে, নরওয়ের আক্রমণভাগে আর্লিং হলান্ডও রয়েছেন। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচকে নিজের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত ম্যানচেস্টার সিটির তারকা এই স্ট্রাইকার। তাকে পাস সরবরাহ করবেন মাঝমাঠে অধিনায়ক ও আর্সেনাল তারকা মার্টিন ওডেগার্ড, স্যান্ডার বার্গ ও ফ্রেডরিক আউরসনেস। দুই উইং দিয়ে গতিঝড় তুলবেন আন্তোনিও নুসা এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সরলথ। রক্ষণভাগে ক্রিস্টোফার আয়ারের সঙ্গে দেখা যেতে পারে টরবোয়র্ন হেগেমকে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরাকের অতীত ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই তাদের পরাজয় ঘটে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচ না জিতে শতভাগ হারের রেকর্ডে কানাডা ও এল সালভাদরের পরেই রয়েছে ইরাক। তবে এই এশিয়ান বাছাইপর্বে ইরাকের ১৫টি গোলের ৮টি এসেছিল সেট-পিস থেকে। ফলে নরওয়ের সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নরওয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়েছিল। পরের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠতে সক্ষম হয়েছিল তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন