প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানী সংকট একটি বড় সমস্যা বলে মনে করা হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর পর বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধান করা খুবই জরুরী এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়। সংকট সমাধানের জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। তারপরও সমাধানে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ এসব কথা বলেন। 'বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ ও বিনিয়োগের সুবিধা' শীর্ষক কর্মশালার প্রথম পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিসংখ্যান বিভাগ) নূরজাহান আক্তার। দ্বিতীয় পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। বিডার নির্বাহী সচিব মো. হুমায়ূন কবির এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিডার মহাপরিচালক (অপারেশন-২) মো. মুজিব উল-ফেরদৌস।
বিডার চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানী সংকট সমাধানের জন্য আমাকে দপ্তরিক কাজের বড় সময় জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে করতে হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শিল্প খাতের বিদ্যুতের সংকট সমাধান সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সম্ভব নয়। যদি বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য নতুন পাওয়ার স্টেশন তৈরি করি, তাহলে সেটি চালু করতে হলে গ্যাসের প্রয়োজন হবে। আমাদের বিদ্যমান অবকাঠামোতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সরবরাহ লাইন দ্রুত প্রস্তুত করতে হবে। যদি এখনই শুরু করি তাহলে দুবছর পর সুফল মিলবে।
গত বছর বিডার ‘বিনিয়োগ সামিটের’ পর দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কেমন বেড়েছে সে সম্পর্কে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, 'আমি বলতে পারি ৪০ শতাংশ বেড়েছে।' তবে পাইপলাইনে যে পরিমাণ বিনিয়োগপ্রস্তাব রয়েছে সেগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরে সময় লাগছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সবাই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণে ছিলেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি বড় সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এতে জ্বালানী তেলের সংকট তৈরি হয়। ফলে আমরা এ বছর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের চেয়ে দেশী বিনিয়োগকারীদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেব। বাইরে থেকে বিনিয়োগের পরিবর্তে নিজের দেশের বিনিয়োগকারীদের দিকে নজর থাকবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করবো।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রসঙ্গে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য অনেক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য একটি ইকোনোমিক জোনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত এটির উন্নয়ন কাজ শুরু করবো। মংলায় তারা আরও একটি ইকোনোমিক জোন তৈরি করতে চায়। চীন সফরে আমরা সেদেশের সম্ভাব্য বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছি। সেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাব্য খাতগুলো তুলে ধরা হবে।
ব্যাংকগুলোর খারাপ রেটিংয়ের কারণে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আশিক চৌধুরী বলেন, 'ব্যাংকিং খাতের দুর্দশা অনেক পুরনো। এতদিন এ খাতের সংকটকে স্বীকার করা হয়নি। ভুল ব্যালেন্সশিট তৈরি করে ভুল মুনাফা দেখানো হয়েছিল। এখন আমরা সে ভুলগুলো স্বীকার করছি, এটা আরও তিন বছর আগে হওয়া উচিত ছিল। তা হলে এখন আমাদের এ সমস্যায় পড়তে হতো না। তবে যে কোন সংকট সমাধানের জন্য ভুল স্বীকার করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতের এখন যে অবস্থা তা থেকে নীচে নামার আর সুযোগ নেই। আমাদের ধীরে ধীরে এ সংকট থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু হলেও সেটি কার্যকর না হওয়ার কারণ জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, 'অনলাইনের পাশাপাশি ম্যানুয়াল সেবা যদি কার্যকর থাকে তাহলে তার সুফল পাওয়া যায় না।' ওয়ান স্টপের পরিবর্তে বাংলাবিজ নামে ওয়ান স্টপ গেটওয়ে চালু হচ্ছে, যাতে ব্যবসা সম্পর্কিত সবগুলো সংস্থার সঙ্গে এপিআই করা হবে। বিজনেস প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইউনিক আইডি চালুর কথাও জানান বিডা চেয়ারম্যান। এখন একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের সঙ্গে যুক্ত তেমনি বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার চালু হলে একটি কোম্পানির একই ধরনের তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। বিনিয়োগ সংস্থায় একীভূতকরণের মাধ্যমে 'বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা' গঠন হলে বিনিয়োগকারীদের জটিলতা অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন