প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আধুনিক মানের খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি আয়োজিত ‘খেলায় খেলায় শিখি’- তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালায় এ বিষয়টি তিনি আলোচনা করেন।
বর্তমান সরকার জিরো থেকে সব কিছু করার চেষ্টা করছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, নতুন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, এসব বিষয় নতুন। নতুন চিন্তাভাবনা ও নতুনভাবে আমরা কাজ করছি। খাল খনন কর্মসূচির কথা বললেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা মনে পড়ে যায়, সেটিকে নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে, যার সুফল কয়েক দিনের মধ্যেই পাবেন। নতুন ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতাও পাওয়া যাচ্ছে, এই সুবিধা ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ পাচ্ছেন এরইমধ্যে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাচ্চা বয়স খেলাধুলার বয়স। সেল্ফ কনফিডেন্স বাড়ানোর জন্য ক্লাস ওয়ান থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ফ্যামিলি বন্ডিং এর উন্নতিতে খেলাধুলার ভূমিকা রয়েছে। যদি আমরা সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে পারি বিশেষ করে কান্ট্রি গেইমসগুলোকে ফিরিয়ে এনে, তাহলে সামাজিক পরিবর্তন আনার পথ খুলবে।
তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে সরে এসে আমরা চাই সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে। খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক ও ডিভাইস থেকে দূরে রাখতেও সাহায্য হবে।
শরীরের ওজনের চেয়ে বইয়ের ওজন অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিশুরা স্কুলে না যাওয়ার জন্য অযুহাত দেয়। যখন স্কুলগুলোতে খেলাধুলা থাকবে এবং প্রতিটি সাবজেক্টের ফাঁকে খেলার মাধ্যমে পড়া করাতে পারি, তখন আমরা দেখতে পাবো, পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের পড়া শেখানো হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনার পাশাপাশি পড়াটিকে খেলার মাধ্যমে শেখানো।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, খেলার মাঠের জন্য আমরা সবাই চিন্তা করছি। সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আধুনিক মানের খেলার মাঠ তৈরি করবে।
তিনি এও বলেন, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এসব কথা বর্তমানে অনেক অভিভাবকদের সন্তানদের বলার সময় পান না। আমাদের প্রত্যেকটি শিক্ষাকেন্দ্রে নীতি ও নৈতিকতা শেখানো গেলে, কথায় কথায় সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ৩০০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে ভাতা দেয়া হচ্ছে এবং নতুন নতুন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। নতুনভাবে তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উঠে আসার জন্য নতুন কুড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহরের বিকেএসপিকে পূর্ণাঙ্গ করে সরকারি খরচে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নেবে সরকার। প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা যাতে হারিয়ে না যায়, সেটাও আমাদের দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে অনেক প্রতিবন্ধী ও ডিজেবল বাচ্চা রয়েছে, যাদের জন্য তাদের পিতামাতা লজ্জা পান। মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বগুড়ায় বিশ একর জায়গার ওপর আরাফাত রহমান প্যারাস্পোর্টস একাডেমি তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। ডিজেবল খেলোয়াড়দের নিয়ে জাতীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন