প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালী সদর উপজেলায় ছাত্রদলের দুই নেতা ও তাদের বন্ধুরা বুদ্ধির ফাঁদে ফেলে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন। এই ঘটনায় দুই চোরকে আটক করা হয়েছে এবং পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই দুই ছাত্রনেতা হলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল পাটোয়ারী ফারহান এবং ইমদাদ উল্যাহ পরশ। তারা স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আটককৃতরা হলেন, দক্ষিণ হাতিয়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরলিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। পুলিশ বলছে, তারা আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে ১৯ মে সকাল ১০টায় নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর সুপার মার্কেটের সামনে থেকে চুরি হয় ছাত্রদল নেতা ফারহান ও পরশের বন্ধু জয়দেব নাথের মোটরসাইকেল। ওই ঘটনার পর দিন একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে বাইকার পরিচয়ে ওই ব্যক্তি জয়দেবকে ফোন করেন। তিনি জানান, জয়দেবের মোটরসাইকেলটি তার কাছে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছে।
তবে, মোটরসাইকেলের সাথে থাকা কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হলে জয়দেব মোটরসাইকেলটি না কিনে তার কাছে কল দেন। মোবাইলে কথাবার্তা প্রসঙ্গে ওই ব্যক্তি জয়দেবকে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন এবং এই টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি ঠিকানায় পৌঁছানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করতে থাকেন। বারবার ফোন দেওয়ার পরও তার কাছ থেকে সাড়া মেলেনি।
এরপর ১৪ জুলাই ছাত্রদল নেতা ফারহান ও পরশের বুদ্ধিতে অন্য একটি মোবাইল ফোন থেকে ওই ব্যক্তির সাথে ফোনে কথা বলা হয়। তিনি কল রিসিভ করে কিছুক্ষণ কথা বলার পর সন্দেহে ফোন কেটে দেন। পরদিন রাত ৮টার দিকে অন্য একটি নম্বর থেকে তাকে আবারও কল করেন। এ সময় তিনি পরিচিত বন্ধু ভেবে কল রিসিভ করেন এবং জানান যে মাইজদীতে নতুন বাসস্ট্যান্ডে আছেন, যেখানে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়েছিল।
ছাত্রদল নেতারা জানান, এরপরে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন ফারহান, পরশ, ইমন এবং তাদের বন্ধু জয়দেব। জয়দেব ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে গল্প শুরু করেন। এক পর্যায়ে দুজন পাশের রেস্তোরাঁয়ে চা পান করতে যান। এই সময়ে সন্দেহ হলে চতুর ওই ব্যক্তি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে, ততক্ষণে তাকে ঘিরে ধরেন চার বন্ধু।
প্রসঙ্গত, সোনাপুর থেকে জয়দেবের মোটরসাইকেল চুরির সময় সিসি টিভি ফুটেজে ওই ব্যক্তির উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে বিকাশে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলার ফলস্বরূপ তিনি বিপদ অনুভব করেন। সেই সময়ে বাঁচার জন্য আরেকজনের নাম বলেন। মূল চোরকে এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন চার বন্ধু। পরে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোন দিয়ে চোর চক্রের অপর সদস্যকে সর্বশেষ জানান যে তার কাছে ভাড়ার টাকা নেই, কিছু টাকা দিতে বলেন। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলে চোর চক্রের অপর সদস্য টাকা দিতে আসে। এ সময় চার বন্ধু দুজনকে আটক করে সোনাপুর নিয়ে যান।
সুঅস্থ মোটরসাইকেলটি চট্টগ্রাম থেকে তাদের ওই বন্ধু বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তারা। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল বলেন, নোয়াখালী হোন্ডা গ্যালারিতে মোটরসাইকেলের পেছনে কাগজ দেখে সন্দেহ হলে তারা ফোন করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির সেল রিসিট সংগ্রহ করেন। সেল রিসিটে মোটরসাইকেলটির ক্রেতা আবু নাছের মঞ্জুর নাম ও মোবাইল নম্বর পাওয়ার পর তাকে ফোন দিয়ে পুরো ঘটনা জানান এবং তিনি বিষয়টি সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামকে অবহিত করেন। পরে এসআই ফখরুল ঘটনাস্থলে আসেন এবং সেখানে দুই চোরের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। জানা গেছে যে, ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করে আসছে। নোয়াখালী থেকে গত কয়েকদিনে তারা আরও কিছু মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে গত শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন