প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উন্নত জীবনের আশায় চার বছর আগে নেপাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) এসেছিলেন ২৬ বছর বয়সি তায়েব খান। বর্তমানে আবুধাবিতে একটি নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করা এই তরুণের ভাগ্য হঠাৎ করে বদলে গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় ইউএই লটারির ‘লাকি ডে’ ড্র-তে তিনি ৩ কোটি দিরহাম (প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি) জয় করেছেন। মজার বিষয় হলো, ড্রয়ের ফলাফল তিনি প্রথমে দেখেননি। পরে তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে খবরটি জানতে পারেন।
লটারি জয় নিয়ে তায়েব বলেন, ‘আগেও ছোট খাটো পুরস্কার জেতার ই-মেইল পেয়েছি, তাই প্রথমে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু ই-মেইল খুলে যখন ৩ কোটি দিরহাম দেখলাম, তখন হাত-পা কাঁপতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি।’
এই লটারির টিকিটটি তিনি একাই কেনেননি। তার আরও চার জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে মিলিত হয়ে টিকিট কিনেছিলেন। তাই পুরস্কারের অর্থ পাঁচ জনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে। প্রত্যেকে ৬০ লাখ দিরহাম পাবেন।
২০২৪ সালে ফেসবুকে ইউএই লটারির বিজ্ঞাপন দেখে তায়েব ও তার বন্ধুরা নিয়মিত টিকিট কেনা শুরু করেন। তারা সবাই মিলে টাকা দিতেন এবং প্রতি সপ্তাহে একজন করে নম্বর নির্বাচন করতেন।
এর আগে তারা কয়েকবার তিন বা চারটি নম্বর মিলে ছোট পুরস্কারও পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তাদের আশা জোগিয়েছে। তায়েবের কথায়, ‘অনেক সময় মনে হয়েছে হয়তো কখনোই বড় পুরস্কার জিতব না। কিন্তু আমরা আশা ছাড়িনি।’
লটারি জয়ের খবরটি প্রথম তিনি নেপালে থাকা তার চাচাকে জানান। তায়েবের ভাষায়, চাচাই তার বাবার মতো এবং তিনিই তাকে ইউএইতে আসতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তাকে বললাম আমরা কত টাকা জিতেছি, তিনি কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতেই পারেননি। তার চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।’
তায়েবের কাছে এই অর্থ শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতা নয়, পরিবারের স্বপ্ন পূরণের সুযোগও। তার প্রথম পরিকল্পনা হলো নেপালে পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করা। তার ভাষায়, ‘আমার সবসময় ইচ্ছা ছিল পরিবারের জন্য ভালো একটি বাড়ি বানাব। এখন আমি তাদের জন্য সব সুযোগ-সুবিধাসহ একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করতে পারব।’
এছাড়া তিনি ব্যবসা ও বিনিয়োগের দিকে মনোযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, ‘চার বছর চাকরি করেছি। এখন জীবনের পরের ধাপে যেতে চাই। ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে চাই।’ তবে নিজের জন্যও তিনি ছোট দুটি স্বপ্ন পূরণ করতে চান। বহুদিন ধরে একটি মাহিন্দ্রা থার জিপ এবং একটি রোলেক্স ঘড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল তার।
তায়েব বলেন, এই জয় শুধু তার নয়, তার চার বন্ধুর জীবনও বদলে দেবে। তার কথায়, ‘আমার এক বন্ধু বহু বছর ধরে পরিবারের কাছ থেকে দূরে আছে। আরেকজনের নতুন বিয়ে হয়েছে, আর একজন সদ্য বাবা হয়েছে। আমাদের সবার জন্যই আমি খুব খুশি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন