প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর থেকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান চোখ খুলছেন না বলে দাবি করেছে পুলিশ। এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নির্ণয় করতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে।
বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন জিসান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে কোনো ধরনের জটিলতা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি অসুস্থতার ভান করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে এই মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ডে অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন এবং মনোরোগবিদ্যা বিভাগের একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে বোর্ডের সদস্যরা জিসানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তাদের মতামত দেবেন।
ভারপ্রপ্ত পরিচালক আরো বলে, 'এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। তিনি যদি সুস্থ থেকেও অসুস্থতার অভিনয় করেন, তবে হাসপাতালে থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। যদি সত্যিই কোনো অসুস্থতা পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।'
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন। তবে ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, এমন তথ্য জানার পর থেকে তিনি চোখ বন্ধ করে আছেন এবং কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানিয়েছেন, মামলায় গ্রেফতার হলেও শারীরিক অবস্থার কারণে এখনো জিসানকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের পর তার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যেমনটি পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে দাউদকান্দির এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু বিয়ের আগের রাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এর আগে ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হওয়ার উল্লেখ করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল অনুসন্ধানে নেমে শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
জিসানকে উদ্ধার করার খবর পাওয়ার পর ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে জিসানের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন- সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তারা সকলেই দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা এবং জিসানের সহযোগী বলে পরিচিত। শনিবার (১৩ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন