প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রেমের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই—এ কথারই বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাবেক লাউখোলা গ্রামের তরুণী সুবর্ণা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক সলেমান। দুই বছর আগে আবুধাবির একটি পার্কে পরিচয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব পরে ভালোবাসায় রূপ নেয়। এবং সেই সম্পর্কের সফল পরিণতি হিসেবে তারা আজ সোমবার (১৫ জুন) বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে। বিয়েকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো এলাকার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। রোববার রাতে জমকালো আয়োজনে তাদের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের জন্য কনে সুবর্ণার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার অতিথির আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে কর্মসংস্থানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবির একটি পার্কে সলেমানের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব হলেও এরপরের সময়ে তা গভীর প্রণয়ে পরিবর্তিত হয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে উভয় পরিবারকে জানান। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে এই বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর সলেমান পূর্বে বিবাহিত এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বিষয়টি সুবর্ণা এবং তার পরিবার অবগত রয়েছেন। মূলত, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে।
এই ব্যতিক্রমী বিয়েকে কেন্দ্র করে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এই আয়োজন নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সুবর্ণা জানান, "আমরা একে অপরকে পছন্দ করি। দুজনের সম্মতি এবং উভয় পরিবারের ইতিবাচক সাড়ার ভিত্তিতেই আমরা বিয়ে করছি। আমাদের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।" বর সলেমান গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর পেশাগত বিবিধ কারণের জন্য ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই আন্তর্জাতিক বিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা ইতিবাচক আলোচনা। অনেকেই এটিকে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মিলনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেছেন, "ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্মতির মাধ্যমে বিয়ে হচ্ছে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা শুধু চাই মেয়েটি যেন প্রবাসের মাটিতে সুখে-শান্তিতে জীবন পার করতে পারে।"
ভিন্ন দুই দেশের এই দম্পতির জন্য এলাকাবাসী শুভকামনা জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সুন্দর বোঝাপড়ার মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য জীবন হবে সুখ ও সফল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন