প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ৪৭ আমাদের ভিত্তি, ৭১ আমাদের অহংকার এবং ২৪ আমাদের পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা।
তিনি মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পাওয়া গেলেও দেশের এবং জনগণের অবস্থা ভালো নয়। শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যা, খুন, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। আর সরকার বিভিন্ন স্তরের রাষ্ট্রযন্ত্রে দলকানা সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে। তারা জুলাই সনদ এবং গণভোট নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অধিকাংশ, প্রায় ৭০ শতাংশ গণভোটে 'হ্যাঁ' দাতাদের অপমান করে তারা ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে জনগণ হতাশ হয়ে উঠছে এবং এর ফল তাদেরকেই বহন করতে হবে। স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসনের ইচ্ছা থাকলে পরিণতির বিষয়টি ভাবতে হবে। জুলাই বারবার ফিরে আসবে আর আমরা নতুন করে আর কোনো মূল্যবান জীবন হারাতে চাই না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তর্র্বতী সরকারের সময় ৫টি ব্যাংকের সমন্বয় করে একটি ব্যাংক গঠন করা হয়েছিল। সেই ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকার জন্য ঘুরছেন কিন্তু তাঁদের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেই। সরকার সমৃদ্ধ ইসলামী ব্যাংক দখলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে জুম মিটিংয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে আবারো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, সেটাও রাতের অন্ধকারে। এটা কি রাতের সরকার?— এ প্রশ্ন জনগণের মুখে আসতে পারে। পলাতক, ফ্যাসিস্ট এবং লুটপাটকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে জোর-জবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের আসনে বসানো হবে, এর ফল ভালো হবে না। যে গ্রাহকের ৫টি শেয়ার রয়েছে, সেও ইসলামী ব্যাংকের একজন মালিক। তাই একটি সমৃদ্ধ ব্যাংক দখল হয়ে গেলে গ্রাহকরা নিশ্চুপ থাকবে না। এজন্য গ্রাহক হিসেবে আমাকেও রাজপথে নামতে হতে পারে।
তিনি মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় সিলেটে জামায়াতের আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত বিষয়গুলি তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এবং জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
এসময় সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মাওলানা মিফতাহুদ্দীন ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলিম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, এবং মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির জানান, ভোটের আগে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। এখন তারা বলেন, নির্বাচন না দিলে গণভোট মেনে নিয়েছিলাম। এটি জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। তারা ইতোমধ্যে প্রতারণার ফলাফল পেতে শুরু করেছেন। একটি সরকারের তিন মাসের মাথায় মন্ত্রীদের ভুয়া স্লোগান শোনা যাচ্ছে। অথচ আমরা মন খারাপ করে হলেও নির্বাচনী ফলাফল মানতে হয়েছিল। আবার সরকারের জ্ঞানী মন্ত্রীদের বক্তব্য হলো, সংবিধানে গণভোট নেই। গণভোট অবৈধ বলছেন। তাহলে শহীদ জিয়া কীভাবে গণভোট করেছিলেন, তার উত্তর তাঁদের কাছে নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে আদেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল, সেই একই আদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাহলে একটি বৈধ আর একটি অবৈধ হয় কীভাবে? এটি প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণকে অপমান করার শামিল। জনগণকে যারা অপমান করে, জনগণও তাদের ছাড়ে না। আমরা মন খারাপ করে হলেও জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ছাড় দেব না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের লড়াই থামবে না।
তিনি আরো বলেন, একজন দলের ঋণখেলাপি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। এমন নজির বিশ্ব মণ্ডলে কোথাও নেই।
জামায়াতের আমির বলেন, সরকার যদি ভালো করে, তাহলে সহযোগিতা করব, মন্দ করলে প্রতিবাদ করব, বাধা দেব। আমি নীরব বসে থাকব না। জ্বালানির সংকট নিয়ে আমরা সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী-এমপিগণ তেলের মজুদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও আশ্বাসমূলক বক্তব্য দিয়ে জনগণের কাছে হাসির পাত্র হয়ে পড়েছেন। উল্টো তারা জামায়াতকে দোষারোপ শুরু করেছেন। এখানে নির্মম ষড়যন্ত্র খুঁজতে থাকলেন। জনগণকে চোর বানাতে শুরু করেছেন। তখন আমরা বললাম, যেহেতু বিরোধী দল সম্পৃক্ত, তাহলে আর কেউ চুরি করে মজুদ করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের চেয়ারে দলকানা সদস্যদের বসিয়ে তারা ফ্যাসিবাদের দিকে হাঁটছেন। ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে পতনের কোনো সম্ভাবনা কিন্তু খোলা থাকবে। জুলাই থেকে শিক্ষা না নিলে এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সংসদে গালাগালি ও কারও চরিত্রহনন করতে বাধা দিয়েছি। সংসদে কেউ আর গালমন্দ করে না। রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুধী সমাজকে জামায়াতে যোগদানের আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জামায়াতে ইসলামী কাজ চালিয়ে যাবে। সরকারকে নব্য ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরে আসতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। জামায়াত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদে ও রাজপথে অবস্থান করবে।
সভাপতির বক্তৃতায় সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম দল। জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু আমরা আছি, আর ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হয়েছে ও পালিয়ে গেছে। তাই এ দেশে কারো ওপর কোনো জুলুম মেনে নেব না। ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন