প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর মান্দার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া নাপিতপাড়া বিলের উপ-ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা। ছবি: কালের কণ্ঠ।
নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবীদের সংগঠন। উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এই এলাকার নাপিতপাড়া বিলটি ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত অনুকূলে ইজারা দেয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, বিলটি সদস্যদের জানানো ছাড়া অন্যের কাছে উপ-ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে ২০০ জন মৎস্যজীবী পরিবার মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নাপিতপাড়া গ্রামের সড়কে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রামজুড়ে প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে, যাতে বিলটি পুনরায় সমিতির নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিলের খাস জমির পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৬ একর। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে এই বিলটির আয়তন প্রায় ২০ একরে দাঁড়ায়। ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৭৫ টাকায় নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের জন্য এই বিলটির ইজারা দেয় উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি।
মৎস্যজীবীরা জানান, ইজারা পাওয়ার পর সমিতির সদস্যদের চাঁদার অর্থে বিলে মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। এই অঞ্চলের অন্তত ২০০ মৎস্যজীবী পরিবারও ওই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা আরও জানান, সমিতির সদস্যদের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আমানত এবং দুই বছরের মাছ চাষের লভ্যাংশ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের কাছে রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমের জন্য বিলের বিভিন্ন কুয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। কোনো ধরণের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মৎস্যজীবীদের না জানিয়ে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের কাছে মাছসহ বিলটি উপ-ইজারা দেন।
মৎস্যজীবীদের মতে, উপ-ইজারা নেওয়ার পর মিলন বিলটির চারপাশে নেটজাল দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন। এর ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আর এ বিলেতে মাছ শিকার করতে পারছেন না।
নাপিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলী বলেন, ‘এলাকার মৎস্যজীবীদের স্বার্থে সমিতির নামে বিলটি লিজ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন।’
মৎস্যজীবী সাইদুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করেই সমিতির দুই নেতা গোপনে বিলটি সাবলিজ দিয়েছেন। এখন বিলে আমাদের নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাপিতপাড়া গ্রামের সাহেব আলী, মনজুর আলী মিস্ত্রি, সাইদুর রহমান, নায়েব আলী ও রুবেল হোসেন।
অথচ এসব অভিযোগ সম্পর্কে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের বক্তব্য পেতে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিল উপ-ইজারা নেওয়া মিলন হোসেন বলেন, ‘সমিতির নেতাদের কাছ থেকে বিল সাবলিজ নিয়ে মাছ চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমি সেখানে অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছি।’ সাবলিজ নেওয়া বৈধ কিনা জানতে চাইলে সে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে চলে।
এ সংক্রান্ত উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী মন্তব্য করেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে লিজ হওয়া বিলটি সাবলিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন