প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ মালিকদের জন্য অর্থের বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা এসকর্ট সরবরাহ করার জন্য একটি ‘ভিআইপি পাস’ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমন উদ্যোগ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে জাহাজ মালিকরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করার ঝুঁকি নিতে আরও আগ্রহী হন।
ট্রাম্প এসংক্রান্ত মন্তব্য করেন যে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ এবং ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ হবে। তবে একই সময়ে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রণালীটি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে কিছু নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে ‘ফি’ আদায় করা হতে পারে।
বর্তমানে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর ফলস্বরূপ অনেক জাহাজ বীমা সুবিধা পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে, জাহাজ মালিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেনার পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোকে দর কষাকষি করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
জ্বালানি খাতের দুটি সূত্র জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ মালিকরা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা এসকর্টসহ দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা লাভ করবেন। এক সূত্রের মতে, ‘এটি অনেকটা ভিআইপি পাসের মতো হবে, যেখানে অর্থের বিনিময়ে নিরাপদ ও দ্রুত ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে।’
এদিকে সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্রস্তাবের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় মিত্রদের উপর নিরাপত্তার দায়িত্বের অংশ চাপিয়ে দেওয়া। তার মতে, হরমুজ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। জি-৭ সম্মেলনের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই আলোচনাগুলো সামনে আনা হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে, ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার ইরানের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। তিনি বলেছিলেন, ‘ইরানকে ফি নিতে দেওয়ার চেয়ে আমি চাই আমরা সেই অর্থ সংগ্রহ করি।’ এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন (ডিপিএ) ব্যবহার করে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোকে হরমুজগামী জাহাজের জন্য বীমা কভারেজ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচ্য।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা থাকলেও সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় বহু জাহাজ মালিক অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর বাইরে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৫০০টি জাহাজ অপেক্ষা করছে, যার মধ্যে প্রায় ২২০টি তেলবাহী ট্যাংকার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় দাম এখনো বেশি রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স দাবি করেছেন, ট্রাম্পের প্রকল্পের ফলে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে এবং জ্বালানি পরিবহন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে “ভিত্তিহীন জল্পনা” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন