প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন তীব্র গরম এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে সাতক্ষীরা শহরের একটি বহুতল ভবনে অসংখ্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপনের একটি অভিনব দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। শহরের শহীদ কাজল সরণী, যা জজ কোর্টের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত, সেখানে 'এসডি হাসপাতাল' এবং 'ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার' ভবনটির দেয়ালে দেয়ালে মৌমাছির চাকের মতো সারি সারি এসি ঝুলছে। একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানে এত বিপুল পরিমাণ এসির ব্যবহার করার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা মারাত্মক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এলাকাটিতে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরো সাতক্ষীরা শহরের এসি যেন এখন একত্রিত হয়ে পড়ে রয়েছে। ভবনের বাইরের দেয়ালে তাকালে মনে হবে, কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই একের পর এক এসি বসানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যদি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতালেই সব বিদ্যুৎ চলে যায়, তবে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে কোথায়? গরমের দিনে এমনিতেই লোডশেডিং হয়, এর ওপর এই ভবনের অতিরিক্ত লোডের কারণে আমাদের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায়ই বিঘ্নিত হচ্ছে।" পরিবেশবিদ ও বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট ভবনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এসি বা ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হলে সুনির্দিষ্ট লোড পারমিশন এবং শক্তিশালী নিজস্ব সাব-স্টেশন থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায়, স্থানীয় ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের প্রশ্ন হলো- সাতক্ষীরায় এই পরিস্থিতি দেখার মতো কেউ নেই? বিদ্যুৎ বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে একটি ভবনে এত বিপুল পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এসি ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা এবং যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) উচিত অবিলম্বে এই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের বৈধতা ও অনুমোদিত লোড খতিয়ে দেখা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন