প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদী থেকে ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে ভৈরব শহরের পলতাকান্দা হাজী আসমত আলী ঘাট এলাকার নদী থেকে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ধারণা করছে, আনুমানিক ৪-৫ দিন আগে ওই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পর লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। যেহেতু লাশটি পানিতে ডুবে ফুলে ও বিকৃত হয়ে গেছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে ভৈরব শহরের পলতাকান্দা হাজী আসমত আলী ঘাটের পাশে নদীতে স্থানীয়রা একটি প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বস্তাটি ঘাটের কাছাকাছি চলে আসে এবং সেটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। বিষয়টি দেখার পর সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ভৈরব নৌ-থানা পুলিশকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নৌ-থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা ভাসমান বস্তাটি টেনে নদীর তীরে আনেন। এরপর বস্তার মুখ খুলতেই ভেতর থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের বিকৃত মরদেহ বেরিয়ে আসে। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মরদেহের পরনে লুঙ্গি ছাড়া আর কোনো পোশাক বা জিনিসপত্র ছিল না।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে আশেপাশের সবকটি থানায় বার্তা (মেসেজ) পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভৈরব নৌ-থানার পরিদর্শক কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সন্ধ্যায় পলতাকান্দার মেঘনা নদীর হাজী আসমত আলী ঘাটে যাই। সেখানে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তীরের এনে বস্তার মুখ খোলার পর ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। যেহেতু লাশটি দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় পুরোপুরি ফুলে বিকৃত হয়ে গেছে, তাই চেহারা দেখে চেনার কোনো উপায় নেই।
নৌ-পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন আগে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপর অপরাধ লুকাতে লাশ বস্তাবন্দি করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যা স্রোতের টানে ভৈরবের ঘাটে এসে ঠেকেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে আমাদের তদন্ত ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন