প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের ৮ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে পোশাক সংক্রান্ত একটি বিষয়ে বিচারকের কাছ থেকে ‘অপমানজনক’ আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী আইনজীবী। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে সারা জাগিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।
তবে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান যে, এটি আসলে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং আলোচনার মাধ্যমেই এর সঠিক সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগকারী আইনজীবীটির নাম অ্যাডভোকেট সাজেদা বেগম সোনিয়া। তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে তার পোস্টে উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরুর পর, শনিবার তিনি তার আগের পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে সোনিয়া বিস্তারিতভাবে লিখেছেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আদালতে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে বিচারকের কাছ থেকে পোশাক বিষয়ে হিজাব ও নিকাব নিয়ে এমন আচরণ ও মন্তব্য পেয়েছেন, যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি একজন আইনজীবী এবং একজন মুসলিম নারী। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মার্জিত ও পেশাদার পোশাকে এজলাসে তৎপড় হওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আদালত ন্যায়বিচার ও মর্যাদা রক্ষার জায়গা। সেখানে একজন আইনজীবীকে পোশাকের কারণে বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়। তার মতে, পোশাক কখনো একজনের মেধা, পেশাদারিত্ব বা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি হতে পারে না।
তবে শনিবার আরেকটি পোস্টে সাজেদা বেগম সোনিয়া জানান, এই ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিনসহ বারের নেতারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারা আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে বসে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং সম্মানজনক সমাধানে আশ্বাস প্রদান করেছেন। এ কারণে তিনি আগের পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনজীবীদের মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অ্যাডভোকেট সাজেদা বেগম সোনিয়া বলেন, ‘আমি সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। এরপর সবকিছু খুলে বলব।’ তার পক্ষ থেকে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন বলেন, ‘এটি একজন আইনজীবীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। আমরা সোমবার সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি আলোচনা করব। আলোচনার মাধ্যমেই এটি সমাধান হবে বলে আশা করছি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন