প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টানা প্রায় নয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সাধারণত প্রায় ছয় মাসের জন্য মোতায়েন করা হয়, কিন্তু এই জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। এর ফলে জাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনার মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের পরিবার সদস্যরা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, গত আট মাসে ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে ১০ হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। একই সময়ে সদস্যদের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই উচ্চঝুঁকির পরিবেশে কাজ করার ফলে সেনাদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা।
জাহাজের একজন নাবিকের বাবা জেফারসন কেলি মন্তব্য করেন, এ ধরনের যুদ্ধজাহাজগুলো বেশ পুরোনো হওয়ায় সেগুলো সচল রাখতে নাবিকদের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তিনি মনে করেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সমুদ্রে রাখা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।
জাহাজের অভ্যন্তরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিষ্কার পানির অভাব, বাথরুমের সমস্যা এবং নাবিকদের মানসিক চাপের অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি চেয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়েছেন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মন্তব্য করেছে যে, জাহাজে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং সেনাদের আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে ছড়ানো তথ্য সঠিক নয়। নৌবাহিনী জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু সরঞ্জাম ও সরবরাহ পৌঁছাতে বিলম্ব হলেও জাহাজে বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। সঙ্গীত সহায়তা হিসাবে চিকিৎসক ও কাউন্সেলরও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও জাহাজের দুরবস্থার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছেন।
যদিও সামরিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে নাবিকদের পরিবারগুলো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। গত সপ্তাহে তারা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন চিঠির মাধ্যমে করেছেন। জেফারসন কেলি এমনকি বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই ছেলের পরিবর্তে জাহাজে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত—শুধু তার সন্তানকে যেন পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর দায়িত্ব নিতে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন