প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) এলাকায় টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণের ফলে অধিকাংশ সড়ক এবং নিচু এলাকা তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনুৎপন্ন পরিস্থিতির কারণে নগরবাসী চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। বাসিন্দাদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ।
পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশনে কাজ করছেন মসিকের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, তিনি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন।
আগের দিন মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাদের মতে, চলতি বছরে এটি জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এই কারণেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনে কাজ করছেন মসিকের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন সাংবাদিকদের বলেন, বহুতল ভবন মালিকদের ময়লা ও আবর্জনা ড্রেনে ফেলার কারণে, গত সময়ের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অনেক স্থানে ড্রেন না থাকা এবং ভারি বর্ষণের ফলে সাময়িক এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, “আমি ও আমার কর্মী বাহিনী মাঠে কাজ করছি। ইতিমধ্যে অনেকস্থানে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু কিছু স্থানে ড্রেনেজ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে পানি জমে আছে, সেগুলোতে নিস্কাশনের প্রচেষ্টা চলছে।”
তিনি এটি জানিয়ে দেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একশ দিনে তিনি নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য আকুয়া খালসহ বেশ কয়েকটি খাল পরিষ্কার করেছেন যাতে পানি প্রবাহ তৈরি হয়। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় এবং কেওয়াটখালী এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় মিশে যাওয়ার কারণে অনেক স্থান সম্পূর্ণভাবে পানিতে ডুবে গেছে। এতে স্কুল ও অফিসগামী মানুষ এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে চরপাড়া এলাকায় হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহনগুলো চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে।
নগরীর চরপাড়া মোড়ে ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন জানান, “অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে কয়েকশো মিটার রাস্তা পার হতে আমার ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালটিতে পানি ঢুকে পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।”
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া এবং নগরায়ন এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। সানকিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, “ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত কর দিলেও আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।”
জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও বর্তমানে প্রকল্পের মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ন জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, নগরীর পানি নিষ্কাশনে খালগুলো পর্যাপ্ত নয়। তবে নগরীর খালগুলোর সঙ্গে নদের সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এটি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।
নগরবিদরা মনে করছেন, কেবল অস্থায়ী উদ্যোগ নয়, বরং পরিকল্পিত নগরায়ন, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না করলে ময়মনসিংহবাসীর এই দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন