প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পর অ্যানথ্রোপিক তাদের নতুন এবং শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করার আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অ্যানথ্রোপিক তাদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের জন্য ‘ক্লড ফ্যাবল ৫’ মডেলের ব্যবহার বন্ধ করতে হয়েছে। এই মডেলটিকে অ্যানথ্রোপিক ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই নির্দেশনার ফলে নিয়ম মেনে চলার স্বার্থে আমাদের সকল গ্রাহকের জন্য ফ্যাবল ৫ এবং মিথোস ৫ হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’
অ্যানথ্রোপিক এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আরেকটি আইনি বিরোধ চলমান রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে কোম্পানিটির এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যানথ্রোপিক।
ক্লড ফ্যাবল ৫ হলো অ্যানথ্রোপিকের ক্লড মিথোস-এর একটি সংস্করণ, যা এআই প্রোগ্রাম হিসেবে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও গুগলের জেমিনির মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
অ্যানথ্রোপিক দাবি করেছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেনি। তবে সরকারের ধারণা, কেউ ফ্যাবল ৫-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে বা ‘জেইলব্রেক’ করে সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।
সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় ‘জেইলব্রেক’ বলতে সফটওয়্যারের নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সুরক্ষিত তথ্য বা বৈশিষ্ট্যে প্রবেশাধিকার পাওয়ার কৌশলকে বোঝানো হয়।
অ্যানথ্রোপিক জানায়, তারা সংশ্লিষ্ট প্রদর্শনী পর্যালোচনা করতে গিয়ে এতে কয়েকটি পূর্বপরিচিত ও তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র দুর্বলতা শনাক্ত করেছে। কোম্পানির মতে, একই ধরনের দুর্বলতা অন্যান্য অনেক উন্মুক্ত এআই মডেলেও নির্দেশিত হয়েছে।
মডেলটি উন্মুক্ত করার আগে অ্যানথ্রোপিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার কথা প্রচার করেছিল। এপ্রিল মাসে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য এটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়।
কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলটি এতটাই উন্নত ছিল যে এটি কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ বা নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানোর সক্ষমতা রাখতো, ফলে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা ছিল। যদিও সমালোচকদের একটি অংশ এই ধরনের বক্তব্যকে বিপণন কৌশল ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন আলোচনা শেষে জুনের শুরুতে মিথোসে প্রবেশাধিকার লাভ করেছিল। তারা বলেছে, এই সবশেষ ঘটনা ‘ইউরোপের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের প্রয়োজনীয়তাকে’ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ার বলেন, ‘আমরা অ্যানথ্রোপিকের বিবৃতিটি আমলে নিয়েছি এবং বিষয়টি মূল্যায়ন করছি।’ এ মাসে ইউরোপীয় কমিশন এআই-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার ওপর ২৭-রাষ্ট্রীয় জোটের নির্ভরতা ব্যাপকভাবে কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রেসপনসিবল এআই-এর অধ্যাপক জিনা নেফ বিবিসিকে বলেছেন, মডেলটিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এআই সিস্টেমগুলোর উন্নয়ন এবং নিরাপদ পরীক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এখন একেবারেই নতুন একটি বাস্তবতায় প্রবেশ করছি। এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সাইবার হামলার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রস্তুত থাকতে হবে।’
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কোম্পানিটিকে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুভাবাপন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত একটি কঠোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন।
তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অ্যানথ্রোপিক মামলা দায়ের করেছে। একজন মার্কিন বিচারক প্রাথমিকভাবে সরকারের নির্দেশনা কার্যকর না করার আদেশ দিয়েছেন। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন