প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০২৬ : নতুন করে কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নতুন নিষেধাজ্ঞার এই ঘোষণা দেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে কিউবার নির্মাণ মন্ত্রণালয়ও।
নাগরিকদের জন্য অনলাইন নিউজ এজেন্সি এএফপি’র পক্ষ থেকে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
কিউবার ধাতু ও খনি খাতের কিছু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মার্কো রুবিও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিউবার সরকারের ‘দমনমূলক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে’৷
এছাড়া, কিউবান ইনস্টিটিউট অব ফ্রেন্ডশিপ উইথ দ্য পিপলস, আইক্যাপ-এর তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল ও ব্রিগেডের সদস্যদের আতিথ্য দেয়।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়া আইক্যাপের সভাপতি ফার্নান্দো গনজালেস ইয়োর্তকে যুক্তরাষ্ট্রে কিউবার গুপ্তচর হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ১৫ বছর ছিলেন। পরে তিনি কিউবায় ফিরে আইক্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
রুবিও বলেন, ‘আজকের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, কিউবার সরকার দমন-পীড়নে অর্থায়ন করবে অথবা কয়েক দশক ধরে হয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে- ট্রাম্প প্রশাসন তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
তবে কিউবা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, রুবিও কিউবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতির ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এর উদ্দেশ্য হলো কিউবা সরকারকে জনগণের প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে বাধা দেওয়া।
ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। এর আগে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন।
কিউবার ওপর আরোপ করা তেল অবরোধ দেশটির সমস্যা সংকটাপন্ন জীবনযাত্রাকে আরো কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জিএইএসএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিদেশি ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের কিউবা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং দেশের অর্থের প্রবাহকে কমিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ রয়েছে যে, কিউবা রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী বিভিন্ন আন্দোলনের কথিত যোগাযোগকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
রুবিও বলেন, কিউবার সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিস্তৃত ‘গোপন প্রভাব বিস্তারকারী নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা করে আসছে। তার বক্তব্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো কর্মসূচির আড়ালে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
রুবিও আরও দাবি করেন, কিছু দিন আগে কিউবার সাবেক নেতা ও কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকীকে কাজে লাগিয়ে দেশটি এই নেটওয়ার্ককে আবার সক্রিয় করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থকদের একটি নতুন দলকে কিউবায় নিয়ে এসে সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
অথচ, ওই ব্যক্তিরা কারা সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি রুবিও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন