প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৭:৫৭ এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩০শে জুলাই, ২০২৬ইং; ০১:১৮ পি.এম
মুন্সিগঞ্জে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীর সহায়তায় কাজ শেষ না করেই ৪৬ লাখ টাকার বিল উত্তোলন
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দিঘলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটিগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বনস্যান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাথরুম সহ হেড টিচারের রুম নির্মাণে অনিয়ম এর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে কাজ শেষ না করেই উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী কাজী ফারুক এর সহযোগীতায় ৪৬ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাম্মেল এন্টার প্রাইজ । তবে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বৃহস্পতিবার(৩০ জুলাই) দুপুর ১ টায় জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সুত্রে জানা যায় , এলজিইডির বাস্তবায়নে PEDP-4 প্রকল্প ৩ টি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নে ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা প্রাক্কলিত মুল্য করা হয়। পরবর্তীতে মেসার্স মোজাম্মেল এন্টার প্রাইজের এর সাথে ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯ শত ৯৯ টাকাই চুক্তি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারী কাজ শুরু করে জুলাই মাসের ২৩ তারিখে কাজ সমাপ্ত করার চুক্তি রয়েছিল। ২০২৬ সালের ২৩ মে প্রকল্পের সম্পুর্ন বিল পরিশোধ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবী , ২০২৫ সালের ২৩ মে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে। কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলনে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তারা৷
আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষকা রেবেকা পারভীন জানান, আমি এলজিইডি অফিস থেকে বলে দিয়েছিল স্বাক্ষর দিতে। আমি স্বাক্ষর দেওয়ার পর ঠিকাদার বিল তুলে ফেলেছে। এখনো রঙের কাজ বাকী। বাথরুমের চাবি দেয় নাই,আমার রুমের চাবী বুঝিয়ে দেয় নাই। সেখানে কাজ কি অবস্থা তাও জানিনা। কাজ শেষ করে নাই। আমি তাদের কল দিয়ে বললে তারা সময় কাল ক্ষেপন করছেন। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকেও ফোনে বলেছি, কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।
মেসার্স মোজাম্মেল এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার মোজাম্মেল হককে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে সহকারী প্রকৌশলী ও তদাকারী কর্মকর্তা ফারুক জানান, কাজ শেষ করেই বিল প্রদান করা হয়েছে। সব জায়গার ছাড়পত্র আমাদের কাছে রয়েছে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ববি মিতু জানান, এটা কোন স্থানের গুলো আমাকে পাঠান। এ বিষয়ে তার বক্তব্য চাইলে উত্তরে তিনি বলেন,এটা দেখতে হবে আমার অর্থ বছরের নাকি আগের অর্থ বছরের। না জেনে আগেই মন্তব্য করা উচিৎ হবে না।
মুন্সিগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রবিউল ইসলামকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"