প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জ, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বহুল প্রতিক্ষীত ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষার পর আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে।
রাজধানী ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় গোপালগঞ্জবাসীর মধ্যে আনন্দ এবং স্বস্তি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এটি স্বল্প খরচে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রা শুরু করবে। ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে।
প্রায় ৭০০ আসনের এই ট্রেন চালুর ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়কপথের তুলনায় কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ট্রেনটির প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে, বাসে ঢাকা যেতে যেখানে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়, সেখানে ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকায় রাজধানীতে যাওয়া যাবে। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, পাশের জেলা পিরোজপুর এবং বাগেরহাটের বাসিন্দারাও এ রেল যোগাযোগের সুবিধা পাবেন বলে আশা রাখা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের ইসলামপাড়ার বাসিন্দা ওসিকুর রহমান বলেন, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি একটি বড় পাওয়া। বাসে অন্তত ৫০০ টাকা খরচ হয়, তবুও মাত্র ১৪৫ টাকার খরচে সরাসরি ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া শাকসবজি পরিবহনের জন্য বগি থাকলে বিকেলে ফসল কেটে কৃষকরা সহজেই রাতে ঢাকায় পাঠাতে সক্ষম হবেন।
কাশিয়ানীর বাসিন্দা জুয়েল হাসান বলেন, এমপি মহোদয়ের প্রচেষ্টায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেনটি চালু হচ্ছে। বাসে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচের পাশাপাশি দুর্ঘটনার একটা ভয় থাকে। ট্রেনে খরচ কম এবং যাতায়াতও অনেক নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।
তবে, ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে স্থানীয় আরিফুজ্জামান রিপন বলেছেন, ট্রেন চালু হওয়া আনন্দের বিষয় হলেও সময়সূচিটা একটু ভেবে দেখে পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল। সকালের দিকে ট্রেন দিলে মানুষ দিনে কর্মস্থলে গিয়ে কাজ শেষ করে আবার গোপালগঞ্জে ফিরতে পারতেন।
গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক পল্লব কান্তি বিশ্বাস বাসসকে জানান, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে এক জোড়া ট্রেন চালানোর বিষয়টি গোপালগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন ছিল। গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি কে. এম. বাবর মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। প্রায় ৭০০ আসনের এই কমিউটার ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকায় ঢাকা যাতায়াতের সুযোগ মিলবে।
তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জ একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায়, ভবিষ্যতে রেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অতিরিক্ত লাগেজ বগি যুক্ত করা গেলে স্থানীয় কৃষকরাও স্বল্পমূল্যে শাকসবজি ও উৎপাদিত পণ্য ঢাকায় পাঠাতে পারবেন।
গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রত্না বৈদ্য বাসসকে বলেন, রাজশাহী রুটের ট্রেন চালু থাকলেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি কোনো ট্রেন ছিল না। আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সার্ভিসটি চালু হলে যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে। প্রচুর যাত্রী হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন