প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩৫ নং কেশরতা সুজাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধান শিক্ষক তার স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিভাবকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে চলেছেন। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বিধিমালা মেনে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) গঠন না করে এবং নিজস্ব লোকজনের মধ্যে এসএমসি সদস্যপদের ফরম বিতরণ করা হয়েছে। অভিযোগকারী অভিভাবকেরা দাবি করেছেন, অধিকাংশ অভিভাবককে না জানিয়ে গোপনে এসএমসি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘকাল একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে তিনি যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করছেন। যখন কোনো বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কর্কশ ভাষায় ভাষা ব্যবহার করেন ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেন। বিদ্যালয়ের অভিভাবক খোকন হোসেন, মিন্টু তালুকদার ও এমদাদুল হক খানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে অন্যত্র বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।" অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সজল কান্তি সিকদার বিদ্যালয়ে তদন্ত করতে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষকের সমর্থক অভিভাবক ও অভিযোগকারী অভিভাবকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তদন্ত কর্মকর্তা নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সজল কান্তি সিকদার জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।" উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদুল রহমান বলেছেন, “অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন