প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গর্ভধারিণী মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে, যিনি মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের দল মেঝে খুঁড়ে মৃত মা মারুফা বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ছেলে জুয়েলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যখন ঘটনাটি জানাজানি হয়, তখন ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পুত্রবধূ ও নাতিকে থানায় আনা হয়েছে, নিহত মারুফা বেগম (৬০) ছিলেন মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার তারা মারুফা বেগমকে দেখেছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে যে, সোমবারের কোনো এক সময়ে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
মারুফা বেগমের ছেলে লাভিন মিয়া জানান, তিনি ৩ ভাইয়ের মধ্যে একজন। এক ভাই মারা গেছে, অপর ভাই জুয়েল মিয়া বাড়িতে থাকে এবং তিনি ঢাকায়। শনিবার (৩০ মে) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। একই দিন ভাইয়ের উপর রাগ করে ভাবি তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরের দিন রোববার, শ্বশুরবাড়িতে যেতে হয় তাকে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজ হচ্ছিল। এর মধ্যে অনেকের কাছে খোঁজ করেও না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। বেলা সাড়ে ৩টার সময় তার স্ত্রী বাড়িতে এসে বিছানার তোশক ঠিক করার সময় রক্ত দেখতে পান, যা দেখেতেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার ভাই জুয়েলের থাকার ঘরের মেঝের মাটিতে ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের খবর দিলে তারা আসেন এবং মেঝের ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখে সন্দেহ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মেঝের মাটি খুঁড়ে মা মারুফা বেগমের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে সন্দেহ হলে তারা রাতে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করেন। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় আনা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হবে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল পলাতক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও জুয়েলের ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় আনা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ছেলে জুয়েলেই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছিল। নিহতের ছোট ছেলে থানায় একটি মামলা দায়ের করতে এসেছে। হত্যাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন