প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রনেতারা আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি সরাসরি সম্প্রচার শুরু করে, যেখানে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিভিন্ন আয়োজন দেখানো হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্ৰীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, খামেনির লাশ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে, খামেনির স্মরণে সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ইরান এবং ইরাকের একাধিক শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, ধর্মীয় নেতা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
আইআরআইবি জানিয়েছে, আজ তেহরানে পৌঁছানো বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছে ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ আল-হালবুসি ও তার সংসদীয় প্রতিনিধি দল, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি, উজবেকিস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকার নুরিদ্দিন ইসমইলোভ, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি এবং ওমানের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল।
এছাড়া, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ধর্মীয় আলেমদের প্রতিনিধি দল, রাশিয়ার ধর্মীয় নেতারা, তুরস্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, লেবাননের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ভারতের প্রতিনিধি দল এবং থাইল্যান্ডের শিয়া মুসলিম সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে পৌঁছেছেন।
এছাড়া, বুলগেরিয়ার রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি ও কয়েকজন সংসদ সদস্যও স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পৃথকভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনির স্মরণে বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও বিদেশি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি, আগামী কয়েক দিন ধরে শোকানুষ্ঠান ও স্মরণসভা চলবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ শুক্রবার তেহরানে রাষ্ট্রপ্রধান, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর পরে ৪ এবং ৫ জুলাই রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান চলবে। ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জানাজার শোভাযাত্রা।
৭ জুলাই শোকানুষ্ঠান স্থানান্তর করা হবে পবিত্র নগরী কোমে। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় মরদেহ নিয়ে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা মরদেহ গ্রহণ করবেন এবং শিয়া মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
সবশেষে, ৯ জুলাই ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম আলি রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। শিয়া মুসলমানদের কাছে এটি অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন। একই হামলায় তার মেয়ে, নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকায় খামেনির দাফন অনুষ্ঠান কয়েকবার পিছিয়ে দেয়া হয়।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন