প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরির জন্য জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬ অর্জন করেছেন জেসমিন আক্তার। তিনি ইস্পাহানি কম্পানির নেপচুন চা-বাগানের স্থায়ী শ্রমিক। ২০২৫ সালে তিনি মোট ২৫ হাজার ৬২১ কেজি চা-পাতা চয়ন করে এ স্বীকৃতি পান।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে জেসমিন আক্তার অতিথিদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। জেসমিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নেপচুন চা-বাগানের শ্রমিক।
সকাল ১০টায় পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী এবং চা শ্রমিক নেত্রী সনতকি রায়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৬০টিরও বেশি চা-বাগান এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র চা-বাগান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের চা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
মুজিবুর রহমান চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, চা শিল্পের অগ্রগতির পেছনে শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে তিনি নারী শ্রমিকদের অবদান সম্পর্কে বলেন, তাদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ বাংলাদেশের চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। এই অঞ্চল শুধুমাত্র চায়ের জন্যই পরিচিত নয়, বরং সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাইল হাওর এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে পর্যটন শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
চা শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, উন্নত জাতের চা উৎপাদন, গবেষণা, আধুনিক কারখানা, উন্নত প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব চা চাষ নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় চা পুরস্কারের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ‘একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা-বাগান’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান। ‘সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগান’ হিসেবে সম্মাননা অর্জন করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা বাগান।
‘শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায় দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। ‘শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী’ হিসেবে সম্মাননা পান পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মো. মতিয়ার রহমান।
‘শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইস্পাহানি মির্জাপুর চা-বাগান। ‘বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কম্পানি’ এবং ‘দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কম্পানি’— উভয় ক্যাটাগরিতেই জাতীয় চা পুরস্কার অর্জন করে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।
আরো ‘শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায় পঞ্চগড়ের সুপ্রিম টি লিমিটেড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন