প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের একটি বাসায় ঢুকে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের ৫ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযানে তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে একজন লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী বাহির থেকে গেট বন্ধ করে দেয়। এতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে খবর দিলে তারা বাসায় ঢুকে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।
অভিযুক্ত ঘাতক বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় জনগণ জড়ো হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। প্রায় দেড় বছর ধরে ঘাতক যুবক একই ভবনের পাঁচতলায় ভাড়া থাকতেন। তবে প্রায় আট মাস আগে তিনি এ বাসা ছেড়ে চলে যান। জানা যায়, অন্তর এই বিষয়টি জানতো যে বাসা ভাড়ার টাকা সবাই শাহিনুরের কাছে জমা দেয় এবং কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যে অন্তর এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানিয়েছেন।
নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ জানান, তার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল এবং সেগুলো লুট করতেই ঘটনাটি ঘটেছে। এছাড়াও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ আর কাউকে জড়িত আছে কি না, তা বের করার দাবি জানান তিনি।
বাদী জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া দিত। এরপর বাড়িওয়ালা নিয়ে যেত। তিনি আরও বলেন, বাসার দায়িত্বে ছিলেন তার আম্মু এবং অন্তর বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর তাকে আর দেখা যায়নি।
রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, এক ব্যক্তি ৪ জনকে খুন করতে পারে কিনা তা নিয়ে সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। খুনের সঙ্গে আর কেউ আছে কি না বা কি কারণে ঘটে তা বিশ্বস্তভাবে তদন্ত শেষ হলে প্রশাসন জানাবে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহীনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন