প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের প্রতি ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভিন্ন শিবিরে এখন চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে, যদিও কিছু সংশয় রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল মহলে চীনের ভাবমূর্তি পূর্বের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের চীন সম্পর্কে “নেতিবাচক” ধারণা রয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৬৮ শতাংশ। জুলাইয়ে গবেষণা সংস্থা শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছিল যে, আমেরিকাতে ৫৭ শতাংশ মানুষ চীনের সাথে “বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার” পক্ষে মত দিয়েছে; এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান রয়েছেন।
কাউন্সিলের জনমত জরিপ তদারককারী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা দিনা স্মেল্টজ মন্তব্য করেছেন, “চীন সম্পর্কে মানুষের মনোভাব সত্যিই বিস্ময়করভাবে বদলেছে।” গ্যালাপের এ বছরের জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ৩৪ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, যা ২০২৩ সালের সর্বনিম্ন হারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এক দশক আগে, ট্রাম্পের কঠোর চীন-বিরোধী বক্তব্য তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
দিনা আরও বলেন, “মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছেÑআগে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চীনের উত্থান ও প্রভাব সীমিত করার পক্ষে ছিল, এখন সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান চীনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।” বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে, ট্রাম্প গত বছর সর্বোচ্চ ১শ’ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এ পরিবর্তন এপ্রিলে বেইজিং সফরের সময় তাঁর বিনয়ী আচরণে স্পষ্ট হয়েছিল এবং এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে বেইজিং এখনও বড় কোনো ছাড় দেয়নি। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় চীনের ব্যাপারে এখনও বেশি কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকলেও, তাদের মনোভাবও আগের চেয়ে ইতিবাচক হয়েছে, যা হয়তো ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তনের ফল। ডেমোক্র্যাটরাও একই পথে অগ্রসর হয়েছেন।
এদিকে, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক সক্ষমতা এবং তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেও, জনমত জরিপ পরিচালনাকারীরা বলছেন, আমেরিকানরা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে খুব একটা ভাবেন না এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি খুব কমই প্রভাব ফেলে।
পিউ এবং শিকাগো কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি। পিউ-এর সহযোগী পরিচালক লরা সিলভার বলেন, “তরুণরা চীনকে একটি পরাশক্তি হিসেবেই জেনে এসেছে।” অন্যদিকে, বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজন্মের কাছে চীন মূলত উন্নয়নশীল দেশ, কমিউনিজম এবং ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ার হত্যাকা-ের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তরুণ প্রজন্মের কাছে চীন পরিচিত হয়ে উঠছে এর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক প্রসারের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে অনলাইনে প্রচলিত ‘চায়নাম্যাক্সিং’ (চীনকে সর্বোতভাবে অনুসরণ করা)-এর মতো প্রবণতা-মাধ্যমে।
শিকাগো কাউন্সিলের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে ১০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার প্রতি সম্মান কমেছে।
কার্টার সেন্টারের গবেষক নিক জেলার এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে আসলে আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগই প্রতিফলিত হচ্ছে। চীনের প্রতি এই ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে খোদ চীনের চেয়ে বরং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবই বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন