প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশাসনিক অনিয়ম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের তদন্তে নেমেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে ‘বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলা’ আয়োজনের অনুমোদনের বিষয়টি তদন্তের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে সামনে এসেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কেবল দাপ্তরিক কাগজপত্র পর্যালোচনা নয়, সরেজমিন অনুসন্ধানে নেমেছে তদন্ত কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত দল সম্প্রতি বরিশালে অবস্থান করে বর্তমান জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তদন্তের প্রয়োজনে ভিডিও, লিখিত ও মৌখিক বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
৯ জুলাই গঠিত কমিটি ও ১৯ বিষয়ে নথি তলব
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখা থেকে এই কমিটি গঠন করা হয় (স্মারক নম্বর: ০৪.০০.০০০০.০০০.৫১১.২৭.০১০৯.১৭.৪২৫)। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মখলেছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং একই বিভাগের উপসচিব মিজ শারমিন ইয়াসমিনকে সদস্য করা হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসনের কাছে ১৯টি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিস্তারিত নথি তলব করা হয়েছে।
বাণিজ্য মেলার অনুমতি ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
তদন্তের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কালেক্টরেট স্কুল মাঠে বাণিজ্য মেলার অনুমোদন প্রদান। এ সংক্রান্ত আবেদনপত্র, অনুমোদনপত্র, মেলা বন্ধে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করছে কমিটি।
নির্বাচনী বরাদ্দ ও দুর্গম কেন্দ্রের বাজেট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল জেলায় বরাদ্দকৃত তহবিলের হিসাব চাওয়া হয়েছে। হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম ভোটকেন্দ্রের প্রস্তাবিত তালিকায় পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছিল কি না এবং দুর্গম কেন্দ্র বাবদ অতিরিক্ত পাওয়া ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচের খতিয়ানও খতিয়ে দেখছে কমিটি।
দুর্গাসাগর দীঘি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
দুর্গাসাগর দীঘির সংস্কার কাজ, সেখানে কর্মরত ২২ জন কর্মচারীর আউটসোর্সিং নিয়োগপ্রক্রিয়া, বেতন কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালার ফাইল চেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ফ্রন্ট ডেস্ক স্থানান্তর এবং আওতাধীন ৮৩টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার পেছনে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনে তোলপাড়
একসঙ্গে এতগুলো গুরুতর প্রশাসনিক বিষয় ও আর্থিক বরাদ্দের নথিপত্র তলব করায় বরিশাল মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন এ বিষয়ে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্ত কমিটির সংগ্রহ করা নথি, ভিডিও ও মৌখিক বয়ানের ভিত্তিতে তৈরি চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে সাবেক জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিধি বহির্ভূত কাজ হয়েছিল কি না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন