প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় একাধিক দিন অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো উদ্ঘাটন করতে পারছে না। এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-গুঞ্জন পদ্ধতিগতভাবে চলমান রয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো একটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাচ্ছে না। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো সুস্পষ্ট নয়। বিভিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান ও জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন দিক যাচাই করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলমান আছে।
এদিকে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক কোনও বিষয় নয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দাঙ্গা বা সম্প্রীতি বিনষ্টের সুযোগ দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই দিন বিকেলে রায়পুরে প্রথম জানাজার পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে দ্বিতীয় জানাজার শেষে রাতে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ দাফন করা হয়। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায়ও অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বজনরা মরদেহ নিতে রাজি না হলে পরে দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।
ঘটনার পরে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। একজন ব্যক্তির পক্ষে দিনের বেলায় চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, আটক হওয়ার পর অন্তরের নিজেকে নির্দোষ দাবি, ঘটনার সময় অন্য কাউকে জড়িত থাকার প্রশ্ন ওঠেছে, অথবা হত্যার পেছনে লুটপাট বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
নিহত শাহিনুর বেগমের ভাই ছানা উল্যা দাবি করেন, বোনের স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। কিন্তু অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্য দিকে, নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে হতে পারে। কারণ তাদের বাড়ির ভাড়ার টাকা মা’র কাছে জমা হতো। তিনি আরও জানান, কয়েক মাস আগে ভবন ছেড়ে যাওয়ার পর অন্তরকে আর সেখানে আসতে দেখেননি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একজন মানুষের পক্ষে চারজনকে হত্যা করতে পারবে কি না, এমন বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে একটি ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না তা তদন্তে বেরিয়ে আসা উচিত। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন