প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বসনিয়াকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে এই জয়েও খুব বেশি আনন্দিত হতে পারেননি মার্কিন সমর্থকরা। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দলের তারকা ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান।
বালোগানের বিতর্কিত লাল কার্ড ইস্যুতে বর্তমানে আমেরিকার ফুটবলাঙ্গন উত্তাল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন এক মোড় ধারণ করেছে যে, ক্ষুব্ধ মার্কিন সমর্থকরা এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন ফোলারিন বালোগান। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল বালোগানের তৃতীয় গোল। লাল কার্ডের ঘটনা ঘটে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে। বল নিয়ন্ত্রণে নিতে যান বসনিয়ার মুহারেমোভিচ ও যুক্তরাষ্ট্রের বালোগান।
মুহারেমোভিচ বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় পেছন থেকে বসনিয়ার ফুটবলারের ডান পায়ে বাজেভাবে ট্যাকল করেন বালোগান। রেফারি সম্ভাব্য লাল কার্ড দেখার জন্য ভিএআরের শরণাপন্ন হন। পরে ৬৪তম মিনিটে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং বালোগানকে মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তবে ফিফার কঠোর আইনের কারণে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই।
ফিফার ৬৬.৪ ধারা অনুযায়ী, ‘সরাসরি লাল কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক।’ ফিফার নিয়মের প্রতি অবগত হয়ে মার্কিন সমর্থকরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক প্রচারণা শুরু করেছেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্কের কথা সবার জানা। গত ডিসেম্বরেই ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান করেছিলেন, যা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল।
সমর্থকরা এখন ট্রাম্পকে ফিফার ওপর প্রভাব খাটিয়ে বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মার্কিন সমর্থক মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রাম্পের উচিত ফিফার কাছে আপিল করা এবং প্রয়োজনে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা।’
অন্য এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ট্রাম্প কেন এখনও বালোগানকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পারডন’ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষণা করছেন না?’ কেউ কেউ আবার বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে ট্রাম্পকে তার ফিফা পিস প্রাইজটি ফেরত দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এমতাবস্থায়, পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে অত্যন্ত ভালো খেললেও এখনও পর্যন্ত গ্যালারিতে কোনো ম্যাচে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা যায়নি। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর রটেছিল যে, ট্রাম্পের গ্যালারিতে হাজির হওয়ার ব্যাপারে কিছু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে আমেরিকায় বেশ কিছু বড় ক্রীড়া ইভেন্টে ট্রাম্প উপস্থিত হলে গ্যালারির একটি অংশ থেকে তাকে লক্ষ্য করে দুয়ো বা দেওয়া হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন