১১:০৭ পি.এম
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা উল্লেখ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। আমাদের শক্তি ছিল না এবং ম্যান্ডেটও ছিল না, যার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নি।
আরও পড়ুন: ‘ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে’
জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। সেই মুহূর্তে নতুন সংস্কারের দিকে যাওয়ার চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই সরকারে অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে কিছু ভিত্তিগত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি দুটি শব্দ ব্যবহার করেন—রিপেয়ার ও রিফর্ম। আগে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছিল এবং পরে রিফর্মের প্রয়োজন দেখা দেয়।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব প্রশাসনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল। রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল।
তিনি মন্তব্য করেন, অনেকে পরিবর্তনের চাহিদা জানান, কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব আদ্-দীনের
দুর্বল আইন সংক্রান্ত জটিল পরিস্থিতি নিয়েও সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আইন সংস্কার ছাড়া প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হওয়া যায় না। খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা সম্ভব নয়।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে শুধু সরকারি খাত নয়, বেসরকারি খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল্ হওয়ায় বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছর ধরে চলছে, এবং পাঁচ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ২০ বছরও লাগে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনও অনেক বেশী, তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, সমান অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশও চাইলে পারবে।
সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে যোগ্যতার মাপকাঠিও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সীমিত সুযোগের এই ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, আধুনিক দক্ষতা এবং বিরামহীন প্রচেষ্টা।
আরও পড়ুন: নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন