ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই আষাঢ়, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ইং ০২ই আষাঢ়, ১৪৩৩বাং

রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাবই বড় সীমাবদ্ধতা ছিল : সাবেক অর্থ উপদেষ্টা


রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাবই বড় সীমাবদ্ধতা ছিল : সাবেক অর্থ উপদেষ্টা

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা উল্লেখ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। আমাদের শক্তি ছিল না এবং ম্যান্ডেটও ছিল না, যার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নি।

আরও পড়ুন: ‘ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে’

জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। সেই মুহূর্তে নতুন সংস্কারের দিকে যাওয়ার চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই সরকারে অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে কিছু ভিত্তিগত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি দুটি শব্দ ব্যবহার করেন—রিপেয়ার ও রিফর্ম। আগে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছিল এবং পরে রিফর্মের প্রয়োজন দেখা দেয়।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব প্রশাসনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল। রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল।

তিনি মন্তব্য করেন, অনেকে পরিবর্তনের চাহিদা জানান, কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব আদ্-দীনের

দুর্বল আইন সংক্রান্ত জটিল পরিস্থিতি নিয়েও সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আইন সংস্কার ছাড়া প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হওয়া যায় না। খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা সম্ভব নয়।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে শুধু সরকারি খাত নয়, বেসরকারি খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল্ হওয়ায় বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছর ধরে চলছে, এবং পাঁচ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ২০ বছরও লাগে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনও অনেক বেশী, তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, সমান অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশও চাইলে পারবে।

সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে যোগ্যতার মাপকাঠিও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সীমিত সুযোগের এই ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, আধুনিক দক্ষতা এবং বিরামহীন প্রচেষ্টা।

আরও পড়ুন: নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ক্যাম্পে অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

এই ক্যাম্পের মধ্যে রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ, ফলজ-বনজ গাছের চারা ও নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) লালমাই উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বড় ধর্মপুর এলাকার মকবুল টিলায় এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যোগে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই পাহাড়ি পথ পেরিয়ে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। চোখ, ডায়াবেটিস, অর্থোপেডিক্স, নাক-কান-গলা ও গাইনি বিভাগের বুথগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর পাশের বুথ থেকে রোগীরা বিনামূল্যে ঔষধ সংগ্রহ করেন। পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গাছের চারা ও নতুন পোশাক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সায়মা ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি ও প্রান্তিক মানুষের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই অনুকরণীয়।

যেখানে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোই কঠিন, সেখানে এত বড় পরিসরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ বিরল উদ্যোগ। এ অঞ্চলে অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

মেডিক্যাল ক্যাম্পের আহ্বায়ক ডা. কমরুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘আমাদের প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এক দিনের হাসপাতাল আয়োজন করা হয়েছে। এতে বড় ধর্মপুর, মঙ্গলমুড়া, রতনপুর, শিবপুর, চন্ডীপুর, দুতিয়াপুর ও দত্তপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন।

সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে যেসব বিভাগ থাকে, তার প্রায় সব সেবাই এখানে রাখা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’

চিকিৎসা নিতে আসা বড় ধর্মপুর গ্রামের আবদুল কাদের বলেন, ‘অনেকদিন ধরে চোখে ঝাপসা দেখতাম। শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য ছিল না। এখানে পরীক্ষা করে ঔষধ পেয়েছি।’

রতনপুর গ্রামের গৃহবধূ রোজিনা আক্তার বলেন, ‘এলার্জির সমস্যায় অনেক কষ্ট পেতাম। ডাক্তার দেখে ঔষধ দিয়েছেন এবং কীভাবে চলতে হবে তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন।’

মঙ্গলামুড়া এলাকার বৃদ্ধ কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাঁটাচলায় শরীরে অনেক ব্যথা ছিল। এখানে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ পেয়েছি। গ্রামের গরিব মানুষের জন্য এমন ক্যাম্প খুব প্রয়োজন।’

গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনিকা ইসলাম বলেন, ‘অনেক নারী প্রথমবারের মতো তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা খোলামেলা বলতে পেরেছেন। গ্রামের নারীরা সাধারণত সংকোচের কারণে চিকিৎসা নিতে আসেন না।’

দিনশেষে পাহাড়ি জনপদের মানুষের কাছে এই আয়োজন শুধু একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প নয়, মানবিকতার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিজ উদ্যোগে বাঁশের সেতু নির্মাণ করলেন স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিজ উদ্যোগে বাঁশের সেতু নির্মাণ করলেন স্থানীয়রা

ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর এলাকায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ করেছেন। ওই সেতুটি শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বাঁশের সেতুর মাধ্যমে অন্তত পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হতে পারবেন। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, বহু বছর ধরে খাল পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল এলাকাবাসী। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, শ্রমজীবী এবং কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছিল। বর্ষা মৌসুম আসলে খালের পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেত।

জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল পরিবারগুলোকে।

এ অবস্থায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুতারপাড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চঞ্চল মোল্লার উদ্যোগে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকার স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

সেতু উদ্বোধনের খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পাড়ে ভিড় জমাতে থাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ, বৃদ্ধ, নারী এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়ে ওঠে। উদ্বোধনের আগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চঞ্চল মোল্লা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এই খাল পারাপারে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছিল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। মানুষের কষ্ট দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত একটি অস্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সেতুর মাধ্যমে অন্তত সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা সদর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় বছরের পর বছর মানুষ অবহেলার শিকার হচ্ছিল।’

স্থানীয় বাসিন্দা হালিম মাদবর অভিযোগ করেছেন, প্রতি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা পাকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে বাধ্য হয়েই এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছাশ्रमের মাধ্যমে বাঁশের সেতু নির্মাণ করেছেন।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, এটি কেবল সাময়িক সমাধান। এক বছরও না পেরোতেই বাঁশের কাঠামো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মোল্লা মন্তব্য করছেন, ‘একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধুমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।’

এলাকাবাসী দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ঢাকা -১ আসনের সাংসদ খন্দকার আবু আশফাক এমপির সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠির পোনাবালিয়ায় সরকারি দিঘির মাছ বিতরণ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ : ইউপি সদস্য রিপনের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


ঝালকাঠির পোনাবালিয়ায় সরকারি দিঘির মাছ বিতরণ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ : ইউপি সদস্য রিপনের প্রতিবাদ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামে সরকারি দিঘির মাছ বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য রিপন ও জামাল মল্লিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা যুবদলের সদস্য সচিবের পরামর্শ এবং এলাকাবাসীর সম্মতি ও সহযোগিতায় ইউপি সদস্য রিপনের নেতৃত্বে সরকারি দিঘিতে মাছ ধরা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ধরা মাছের একটি অংশ মো. নাইম খলিফার বাড়ির সামনে রাখা হয়। মাছ বণ্টনের প্রস্তুতিকালে সেখানে রাখা মাছের মধ্যে ৫টি বড় আকারের মাছ কম পাওয়া গেলে এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাসান মল্লিক, হাসিব, মনি সহ সাতজনের একটি দল ইউপি সদস্য রিপনের অনুপস্থিতিতে আগে ধরা মাছ ও পরে ধরা মাছ একত্রিত করে ৫টি মাছ না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে ঘটনাস্থলে রাখা মাছ নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য রিপনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষারোপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাছ বিতরণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিছু পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। তারা বলেন, সরকারি সম্পদ সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রিপন বলেন,
“মাছ ধরা শেষে গুচ্ছ গ্রামের ৩১টি পরিবারের মাঝে মাছ বণ্টনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কিছু ব্যক্তি আগে ধরা মাছ ও পরে ধরা মাছ একত্রিত করে ৫টি মাছ না পাওয়ার অজুহাতে আমাকে চোর আখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা করছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনে প্রশাসনের তদন্তও কামনা করছি।”
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশ ইউপি সদস্য রিপনের বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরের মহাসড়ক যেন এখন জমজমাট বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


গাজীপুরের মহাসড়ক যেন এখন জমজমাট বাজার

দফায় দফায় উচ্ছেদ এবং আলটিমেটাম দিয়েও মহাসড়ককে দখল মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বর্তমানে একটি জমজমাট বাজারের রূপ নিয়েছে। এমন অবস্থায় আসন্ন ঈদে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের ইজারা জটিলতাই এই সমস্যার অন্যতম কারণ।

টঙ্গী থেকে শুরু করে ভালুকা পর্যন্ত দিন ও রাত চলছে এই সড়ক দখলের এক প্রতিযোগিতা। অবৈধ এই কার্যক্রমে আবার নীরব সমর্থন দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে বাজার হিসেবে দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তা ইজারা দিয়েছে। যার ফলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

কোনো উৎসব এলেই মহাসড়ক দখলের এই ভোগান্তির নতুন রূপ দেখা যায়। আসন্ন ঈদেও এর ব্যতিক্রম নেই। অতএব, সম্ভব নয় হলেও আগেভাগেই সড়ক ছাড়ার জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে। যদি এই সময়ের মধ্যে দখলদাররা সরে না যায়, তবে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

মহাসড়ক নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন এক চোর-পুলিশ খেলা। কাগজে কলমে রাস্তার মালিক সড়ক বিভাগ হলেও প্রতিবছর তা ভাড়ায় দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। যদিও জেলা প্রশাসকের দাবি, বাজার ইজারা দিলেও মহাসড়ক দখলের লাইসেন্স কাউকে দেয়া হয়নি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূইয়া বলেন, "বাজার ইজারা দেয়া হয়েছে কিন্তু মহাসড়ক ইজারা দেয়া হয়নি। এটা চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। যদি কেউ মহাসড়কের উপর দোকান বসিয়ে থাকে, তবে তিনি অবৈধভাবে এই কাজ করছেন।" এরই মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের সাথে আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি মহাসড়ক থেকে সব ধরনের দোকানপাট উচ্ছেদ করতে।

এদিকে সরকারের দুই দফতরের এই কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ হচ্ছে ইজারাদাররা। এমন বাস্তবতার মধ্যে, আসছে ঈদে ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দুর্ভোগের আরেক নাম হতে পারে। সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিনের এই জটিলতা কাটাতে সরকারের দুই দফতরের সমন্বয়ের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হোসাইন মো. শাহিন বলেন, "সড়কের আশপাশে কোনো ইজারা দেয়া ঠিক নয়। এর কারণে বাজার বসতে বসতে মহাসড়কের দুটি লেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।" ঈদ আসলে এই ভোগান্তি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ বিষয়ে সরকারি দফতরগুলোকে আরো সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ তুলে ধরেছেন।

মহাসড়কে ভোগান্তি কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও কঠোর হতে হবে, এমন পরামর্শ নগরবাসীর।

মহাসড়কের পাশে জায়গা ভাড়া দিয়ে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে যানজটে পড়ে প্রতিদিন বিশাল সংখ্যক কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরপালার যাত্রীরা। ঈদ আসলেই এই সমস্যা সমাধানের জন্য তৎপরতা নয়, বরং এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা গাজীপুরবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৪৩
জোহর ১২:০০
আসর ০৪:৪০
মাগরিব ০৬:৪৭
ইশা ০৮:০৯
সূর্যোদয় : ০৫:১১ সূর্যাস্ত : ০৬:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%