প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পর এবার বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের নৌপথও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা ইরান কর্তৃক দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড অথবা জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এই বার্তা ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালি আগেই বন্ধ থাকার কারণে, বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট বিরাজমান, তার মধ্যে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মতো প্রধান তেল রপ্তানি রুট বন্ধের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানাচ্ছে, ইয়েমেনের হোদাইদাহ ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারের নিকট ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। ওই রুট দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক এবং মারণাস্ত্রবাহী জাহাজে হামলার ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে যা নৌপথ অবরুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয়। ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা এই সর্বাত্মক হামলা শুরু করবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের জেরে তেহরান বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর, জুনে দুপক্ষের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলে তেহরান এই নতুন কৌশলগত পাল্টা চাল দিয়েছে। যদি হরমুজ এবং লোহিত সাগর—মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি প্রধান নৌপথ একসঙ্গে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়, তাহলে তা বৈশ্বিক সংঘাতের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, লোহিত সাগরের এই রুটটি বন্ধ হলে বিকল্প উপায়ে তেল রপ্তানির আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। ইরান এবং হুথিদের পক্ষ থেকে আসা এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরবও। বিশেষ করে সোমবার (১৩ জুলাই) সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় এই অঞ্চলের উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন