প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : লেবাননের পার্লামেন্ট বুধবার একটি ব্যাপক সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছে, যা বহুদিন ধরে অপেক্ষিত ছিল। এই আইনটির ফলে হাজার হাজার কারাবন্দি ও পলাতক ব্যক্তি সুবিধা লাভ করবেন। এটি ১৯৯১ সালের পর পাস হওয়া প্রথম আইন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবী এবং বছরের পর বছরের বিতর্কের বিষয় হিসেবে এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য হলো কারাগারে থাকা অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমানো। অনেক বন্দি বছরের পর বছর ধরে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
দেশটির স্পিকারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ‘সাধারণ ক্ষমা প্রদান এবং নির্দিষ্ট কিছু সাজা ব্যতিক্রমীভাবে কমানোর লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন অনুমোদন করা হয়েছে।’
আইনটির ফলে ঠিক কতজন ব্যক্তি সুবিধা পাবেন, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোন তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিলটির পক্ষে থাকা আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অন্যতম ইমাদ আল-হুতের মতে, নতুন আইনটি মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের সাজা ১৭ বছর করে দিয়েছে। লেবাননে এক বছরের কারাদণ্ডকে নয় মাস হিসেবে গণনা করা হয়। সেই কারণে ১৭ বছর কারাদণ্ড আসলে ১২ বছর ৯ মাসের সমান।
দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির হার ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। কারা কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চের শেষে দেশে অন্তত ৬ হাজার ২৬৮ জন বন্দি ছিলেন।
২০২৪ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। কারণ লেবাননে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত অনেক ইসলামপন্থী বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই উত্তর লেবাননের সুন্নি অধ্যুষিত ত্রিপোলি শহরের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা, সংঘর্ষে অংশগ্রহণ ও বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার রাতে এএফপির এক সংবাদদাতা ত্রিপোলিতে উপস্থিত থাকার সময় দেখেছেন, সেখানে কয়েক ডজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে জড়ো হয়েছেন সাধারণ ক্ষমা উদযাপন করার জন্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইসলামের শাহাদা বা ঈমানের ঘোষণা সংবলিত পতাকা বহন করছিলেন। তারা ‘আল্লাহু আকবার’(আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং আতশবাজি পোড়াচ্ছিলেন।
কারাগারে থাকা ভাইয়ের কথা উল্লেখ করে শাদি আবু ওমর বলেন, ‘এই সাধারণ ক্ষমার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছি... আমাদের ওপর থেকে এই অন্যায় দূর করার জন্য।”
ইরান-সমর্থিত শিয়া আন্দোলন হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিও তাদের সম্প্রদায়ের জন্য সাধারণ ক্ষমা দাবি করে আসছিল। পূর্বাঞ্চলের বালবেক ও হারমেল অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার মুাদক-সম্পর্কিত অপরাধ ও গাড়ি চুরির বিরুদ্ধে সাধারণ ক্ষমা দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে, খ্রিষ্টান দলগুলো আইনটি তাদের পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাইছিল, যারা ২০০০ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার পর ইসরায়েল-সমর্থিত প্রক্সি বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল এবং প্রতিশোধের ভয়ে ইসরায়েল পালিয়ে গিয়েছিল।
লেবানন এর আগে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছিল। ওই আইনের মাধ্যমে সাবেক যুদ্ধবাজ নেতাদের সংঘাত চলাকালে সংঘটিত অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি না হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন